যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনও অপরাধ নয়। সেই কারণে তরুণদের জেলে পাঠানো কাপুরুষোচিত পদক্ষেপ। বুধবার সমাজমাধ্যমে এই মন্তব্য করে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি)-র দুই কর্মী সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর পরেই এই মন্তব্য কংগ্রেস নেতার।

এক্স-এ রাহুল লেখেন, “যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে ত্রিবর্ণরঞ্জিত জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ নয়। এর জন্য তরুণদের জেলে পাঠানো কাপুরুষোচিত কাজ।” তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়া, যুবক, সাংবাদিক কিংবা ‘ইন্ডিয়া’ জোট— প্রতিবাদের ব্যানার আলাদা হলেও সকলের লক্ষ্য এক। সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার দাবি করছেন দেশের নাগরিকেরা। রাহুলের কথায়, “যন্তর মন্তর ভারতের মানুষের। আমরা তা ফিরিয়ে নেব।”
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলন করছে সিজেপি-সহ বিরোধী শিবির। মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের কাছে বিক্ষোভের সময় সৌরভ ও আশুতোষকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন সিজেপি সদস্য অজিঙ্ক শিন্দে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও গ্রেফতারির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, জাতীয় পতাকা ওড়ানোই যদি অপরাধ হয়, তবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার সাহস দেখাক কেন্দ্র। যদিও পুলিশের দাবি, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসাবে নির্দিষ্ট রাখার অনুমতি প্রত্যাহারের পরেও ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভিতর দিয়ে সেখানে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্তেরা।
এ দিকে, সিজেপির আন্দোলন কি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের কর্মসূচির সঙ্গে মিশে যাবে? এই প্রশ্নে অভিজিতের স্পষ্ট বক্তব্য, দুই আন্দোলনের লক্ষ্য এক হলেও সিজেপি স্বতন্ত্র চাপসৃষ্টিকারী সংগঠন হিসাবেই কাজ করবে। কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার প্রশ্ন নেই। তাঁর অভিযোগ, জ্ঞানেশের ভূমিকার কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রভাবিত হচ্ছে এবং নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমতায় থাকা সুবিধাজনক হচ্ছে। সেই অভিযোগের বিরুদ্ধেই তাঁদের লড়াই বলে দাবি অভিজিতের।
ফলে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আক্রমণ আরও তীব্র হল।