সুস্মিত মজুমদার, নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিমবঙ্গ এবার সম্পূর্ণরূপে মাওবাদী মুক্ত। এমনই দাবি করলেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকা সদস্যদের আত্মসমর্পণ ও গ্রেফতারের ধারাবাহিকতার পর এবার আরও দুই সক্রিয় মাওবাদী সদস্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন। আত্মসমর্পণকারী দুই মাওবাদী সদস্যের নাম মঙ্গল ও মালতি। ঝাড়খণ্ড থেকে এসে ঝাড়গ্রাম ও সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁরা। অবশেষে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করে কলকাতা পুলিশের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন দু’জন।

পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১২ সালের পর থেকে রাজ্যে মোট ১৩ জন মাওবাদী সদস্যের নাম পুলিশের তালিকায় ছিল। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যেই আত্মসমর্পণ করেছেন, আবার কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার মঙ্গল ও মালতির আত্মসমর্পণকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁদের আত্মসমর্পণের পর রাজ্যে মাওবাদী কার্যকলাপের অবশিষ্ট উপস্থিতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই রাজ্য সম্পূর্ণ মাওবাদী মুক্ত বলে দাবি করেছেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গল ও মালতি দু’জনেই ঝাড়খণ্ড থেকে এসে ঝাড়গ্রাম এলাকায় কাজ করতেন। পরবর্তীতে সারাঙ্গার জঙ্গলে মাওবাদী নেতা আকাশের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত হন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও, মঙ্গল মাওবাদী নেতা কিষেনজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে খবর। দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল বলে জানা যাচ্ছে। তবে কীভাবে তাঁরা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন এবং তাঁদের কার্যকলাপের পরিধি কতটা ছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের পর থেকে তাঁরা ওই এলাকা ছেড়ে সরে আসেন। এরপরই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন মঙ্গল ও মালতি। সমাজের মূল স্রোতে ফিরে এসে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান তাঁরা। সেই ইচ্ছার কথা জানিয়েই শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন দু’জন। দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল ও মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তাঁদের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ মহল।
এই দুই মাওবাদী সদস্যের মাথার দামও ঘোষণা করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলের বিরুদ্ধে পাঁচ লক্ষ টাকা এবং মালতির বিরুদ্ধে দুই লক্ষ টাকার আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করা ছিল। অর্থাৎ, দু’জনের মাথার দাম মিলিয়ে মোট সাত লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। তাঁদের আত্মসমর্পণের ফলে মাওবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হল বলে মনে করা হচ্ছে।
আত্মসমর্পণের সময় মঙ্গল ও মালতি তাঁদের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলের কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল এবং কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। অন্যদিকে, মালতির কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল। অর্থাৎ, শুধু আত্মসমর্পণই নয়, তাঁদের কাছ থেকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও পুলিশের হাতে এসেছে। এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যে মাওবাদী কার্যকলাপ মোকাবিলায় গত কয়েক বছর ধরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক পদক্ষেপের কথা উঠে এসেছে। আত্মসমর্পণ, গ্রেফতার এবং সংগঠনের সদস্যদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে মাওবাদী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলেছে। এবার মঙ্গল ও মালতির আত্মসমর্পণের পর সেই প্রচেষ্টায় আরও অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। সব মিলিয়ে, মঙ্গল ও মালতির আত্মসমর্পণ এবং তাঁদের কাছ থেকে একে-৪৭-সহ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্য সম্পূর্ণ মাওবাদী মুক্ত বলে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের দাবি ঘি