অরুণাচল প্রদেশের তিনটি জেলায় শুক্রবার ১২ ঘণ্টার বন্ধ পালিত হল। সিয়াং নদীর উপর বড় বাঁধ তৈরির বিরোধিতা করে আন্দোলন করার অভিযোগে আটক ১০ জনের মুক্তির দাবিতে এই বন্ধ ডাকা হয়। এর ফলে জনজীবন, যান চলাচল এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হয়।আদি বানে কেবাং ইউনাইটেড (ABKU), SAYA, আদি গালো ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, SIFF এবং SIFFYW-এর সহযোগিতায় এই বন্ধের ডাক দেয়। সকাল ৫টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সিয়াং, আপার সিয়াং এবং ইস্ট সিয়াং এই তিন জেলায় বন্ধ চলে।খবর অনুযায়ী, আপার সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত বাঁধ প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর প্রায় ২০ দিন আগে রাজ্য প্রশাসন ১০ জনকে আটক করে। তাঁদের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন বারবার সরব হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁদের মুক্তির জন্য প্রশাসন এখনও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ করেনি।সংগঠনগুলির হুঁশিয়ারি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটক ১০ জনকে মুক্তি না দিলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। প্রয়োজনে আরও বড় আকারে বন্ধ ডাকা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
এই বন্ধের জেরে অসম-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যাতায়াত করা মানুষ সমস্যায় পড়েন। চিকিৎসার জন্য যাঁরা যাচ্ছিলেন, তাঁদেরও দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।ওড়িশা থেকে মায়ের ওষুধ আনতে যাওয়া এক ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর মায়ের লিভার ক্যানসার রয়েছে। কিন্তু বন্ধের কথা তিনি জানতেন না। সকালে সেখানে পৌঁছে দেখেন, চেকপোস্ট বন্ধ। ফলে বাস ফিরে যায় এবং তিনি মাঝপথে আটকে পড়েন।তিনি বলেন, “আমি কোনও সমস্যার কথা জানতাম না। আজ সকালে এখানে পৌঁছেছি। চেকপোস্ট বন্ধ থাকায় বাস ফিরে গিয়েছে। ফলে আমরা এখানে আটকে পড়েছি।”চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষ এবং পরীক্ষায় বসতে যাওয়া পড়ুয়াদের বন্ধের আওতার বাইরে রাখার জন্য আন্দোলনকারীদের কাছে আবেদন জানান তিনি।
অন্যদিকে, শিলিগুড়ি থেকে আরও দুই রোগীর সঙ্গে আসা এক মহিলাও বন্ধের কারণে সমস্যার কথা জানান। তিনি বলেন, “আমরা শিলিগুড়ি থেকে এসেছি। এখানে মাদাম ডুনা ডিয়াং নামে এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক রয়েছেন। আমরা তাঁর কাছে চিকিৎসা করাতে এসেছি। আমরা তিনজনই রোগী।”ওই মহিলা জানান, তাঁরা খাবার, পানীয় জল এবং শৌচাগারের কোনও ব্যবস্থা পাচ্ছেন না। ফলে তাঁদের পক্ষে যাত্রা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।তিনি বলেন, “আমরা অসুস্থ। সময়মতো ওষুধ খাওয়া দরকার।”এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার এবং বন্ধের আয়োজকদের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার আবেদন জানান তিনি।