তৃণমূলের ‘আসল’ শিবির কোনটি, তা প্রমাণ করতে নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে দু’পক্ষেই। তার মধ্যেই এ বার নথিপত্র নিয়ে দিল্লি যাওয়ার পথে ট্রাকে হামলার অভিযোগ তুলল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।

সোমবার সকালে ঋতব্রতর দাবি, হরিয়ানা সীমান্তের কাছে তাঁদের হলফনামা বহনকারী ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবিরের মদত রয়েছে বলে সন্দেহ তাঁদের। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে মমতাপন্থী শিবির।
ঋতব্রতর দাবি, কালীঘাট শিবির চার্টার্ড বিমানে করে রবিবার সন্ধ্যায় হলফনামা দিল্লিতে পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু তাঁদের শিবিরের সেই আর্থিক সঙ্গতি নেই। তাই কর্মীরা সড়কপথে ট্রাকে করে নথিপত্র নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সোমবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ ট্রাকটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। সমাজমাধ্যমে ঋতব্রত লেখেন, কর্মীরা বাধা দিয়েছেন। তাঁদের লড়াই জারি রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, চার্টার্ড বিমানের সংস্কৃতির সঙ্গে তৃণমূল স্তরের সংকল্পের লড়াই চলছে।
ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামানের অভিযোগ, হরিয়ানা সীমান্তের কাছে তাঁদের ট্রাক ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছে। এর পিছনে কালীঘাট শিবিরের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ।
অন্য দিকে, অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মমতাপন্থী সাংসদ দোলা সেন। তাঁর কটাক্ষ, “নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা হয়।” তাঁর দাবি, সত্য, ন্যায় এবং মানুষই শেষ কথা বলবেন।
হলফনামা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগে মমতা শিবিরও অভিযোগ তুলেছিল। তাদের দাবি, বিজেপির নির্দেশে পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করে ঋতব্রত শিবিরকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। জোর করে হলফনামায় সই করানো এবং থানায় স্ট্যাম্প পেপার পাঠানোর অভিযোগও তুলেছিলেন তাঁরা। রবিবার মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপি টাকা ও ভয় দেখিয়ে তৃণমূলের কর্মী-বিধায়কদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ়’ করেছে নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই শিবিরকে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা কমিশনের। সেই প্রক্রিয়াকে ঘিরেই তৃণমূলের দুই শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হল।