জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক: অবশেষে ৫৭ দিনের অপেক্ষার অবসান। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির ৫৭ দিন পরে অয়ন মুখার্জী পরিচালিত এই অ্যাকশন থ্রিলার ছবি ৯ অক্টোবর থেকে নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে। আপনারা প্রত্যেকেই জানেন ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়ার’ ছবির সিক্যুয়েল হল ‘ওয়ার ২’। ২০ মে মুক্তি পায় হৃতিক রোশন এবং জুনিয়র এনটিআর অভিনীত ‘ওয়ার ২’ ছবির টিজার। ছবির টিজার রিলিজের পরে দর্শকদের উৎসাহ, ভালোবাসা দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন হত্বিক রোশন। আর এই বছর ১৪ অগাস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় হৃতিক রোশন এবং জুনিয়র এনটিআর অভিনীত ‘ওয়ার ২’ ছবিটি। মুক্তির সাথে সাথেই কিন্তু বক্স অফিসে ধামাকা দেখিয়েছিল ছবিটি। তবে সময়ের সাথে সাথে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি ছবিটি। অর্থাৎ বলা যেতেই পারে ছবির যাদু কমতে শুরু করেছিল। আশা জাগিয়ে হঠাৎ কেন এই ভাবে আশাহত করল ছবিটি, সেটাও স্পষ্ট নয়। কোন ছবি দর্শকদের ভালো লাগবে, সেটা অবশ্যই বিচার করবেন জনতা জনার্দন। পরিচালক অয়ন মুখার্জির এই অ্যাকশন থ্রিলারের প্রযোজক আদিত্য চোপড়া। এটি যশরাজ ফিল্মসের স্পাই ইউনিভার্সের ষষ্ঠ ছবি।
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরে হৃতিক রোশন এবং জুনিয়র এনটিআর-এর ভক্তরা ‘ওয়ার ২’ ছবির ওটিটি মুক্তির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছেন। ছবির নির্মাতারাও ভক্তদের উৎসাহ দেখে ছবিটি ওটিটি-তে স্ট্রিম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবার অবশেষে অপেক্ষার অবসান, ৯ অক্টোবর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকে ওটিটি-তে স্ট্রিম হবে ছবিটি। নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়ার অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করা হয়েছে। যে পোস্টে লেখা- —রাগ দ্বিগুণ, রণক্ষেত্রও দ্বিগুণ। হৃতিক ফিরছেন ‘ওয়ার ২’-এ, ৯ অক্টোবর থেকে নেটফ্লিক্সে আগুন ঝড়াবে সিনেমা। ছবিটি দেখা যাবে হিন্দি, তেলেগু ও তামিল ভাষায়। পোস্টটি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। কেউ কেউ হাসির ইমোজি দিয়ে ঠাট্টা করেছেন। আবার কেউ লিখেছেন -শেষ পর্যন্ত এল তাহলে। ঘরে বসে কতক্ষণে এই ছবি দেখবো, সেই অপেক্ষাতেই আছি।
এবার আপনাদের জানাই, ‘ওয়ার ২’ হল ২০১৯ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ওয়ার-এর সিক্যুয়েল। যেখানে হৃতিক রোশন ও টাইগার শ্রফ মুখ্যভূমিকায়। আর এবার হৃতিকের কবীর চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন জুনিয়র এনটিআর অর্থাৎ বিক্রম। সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন কিয়ারা আদবানি অর্থাৎ কাব্যা।
১৪ বছর বয়সী কবীর তার বাবার আত্মহত্যার পরে গৃহহীন হয়ে পড়েন । রঘুর সাথে তার বন্ধুত্ব হয়। এবং দুজনেই একটি ডাকাতির সময় গ্রেফতার হন। লুথ্রা, যিনি একজন সেনা মেজর। বন্দিদের সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য অনুপ্রাণিত করতে থাকেন তিনি। কবীর এবং রঘু সেনায় যোগদানের জন্য শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু রঘু দেশের চেয়ে নিজেকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ায় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হন। কবির লুথ্রার সমর্থনে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। বিশ্বাসঘাতকতার কারণে রঘু আটক অবস্থায় পালিয়ে যায়। এবং বিক্রম চেলাপথী হিসাবে পুনরায় তার আর্বিভাব হয়।
হৃতিক রোশন আবারও এই সিনেমায় ফিরে এসেছেন কবীর হিসাবে। তিনি একজন র এজেন্ট। যিনি অন্য সবার থেকে আলাদা। কিন্তু তিনি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মধ্যে প্রবেশ করেন, যারা বিশ্ব শাসন করতে চায়। আর এই গ্যাঙে যোগ দিয়ে তিনি খলনায়ক হয়ে ওঠেন। এখানেই ছবিটি ইঙ্গিত দেয়, কর্পোরেট ভিলেনের জন্য গণতন্ত্র একটি পুরানো ধারণা। কিছু দূর এগোনোর পরে ছবির গল্প জটিল হয়। যেখানে কবীরের পথে একমাত্র বাধা হয় এজেন্ট বিক্রম। দুজনের একটি ইতিহাস আছে আগেই বলেছি আপনাদের। কবীর আবু ধাবিতে গুলাটিকে খুঁজে বের করে এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করে। বিক্রম সেখানে হস্তক্ষেপ করেন। গুলাটিকে নিজেই হত্যা করে সে। এবং র-এর চোখে কবীরকে হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত করে। নৌকায় ধাওয়ার পর, কবীর পালিয়ে যায়। পরে সে কাব্যের সাথে পুণরায় মিলিত হয় এবং তার লক্ষ্য বিক্রমের আসল পরিচয় প্রকাশ করা।
গল্পটির দ্বিতীয়ার্ধে আমরা কবীর এবং বিক্রমের অতীত জানতে পারি। একজন অভিজাত পরিবারের সদস্য। অন্যজন রাস্তায় থাকেন। এখানে একটি অংশ রয়েছে যেখানে লেখক শ্রীধর রাঘবন এবং আব্বাস টায়ারওয়ালা তাদের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। দুটি দৃষ্টিকোণের একটি আকর্ষণীয় লড়াই প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। গল্প যত এগোতে থাকে, তত নানান নতুন মোড় দেখা যায় সিনেমায়। ছবিতে হৃতিক রোশন এবং জুনিয়র এনটিআর-এর মধ্যে জমজমাট অ্যাকশন সিকোয়েন্স দেখা গেছে। পাশাপাশি কিয়ারা আদবানিকেও অ্যাকশন মোডে দেখা গিয়েছে। ছবিতে অনিল কাপুর এবং আশুতোষ রানাও ছিলেন। তবে এই ছবিটি দক্ষিণে বিশেষ সাড়া ফেলতে পারেনি। কিন্তু এই ছবিতে প্রথমবার হৃতিক রোশন-কিয়ারা আদবানির জুটিকে দেখা গিয়েছে।
ছবির এই ব্যর্থতার পিছনে আত্মসমালোচনা করেছেন হৃতিক স্বয়ং। ছবির মুক্তির পরে প্রথমবার হৃতিক রোশন নিজেই ওয়ার ২ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। নিজের চরিত্র কবীরের কিছু ছবি করে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে তিনি লেখেন, সবকিছুই তখন নিখুঁত লাগছিল, মনে হচ্ছিল সহজ একটা জয়। কিন্তু ভেতরে একটা কণ্ঠ বলছিল— এটা কি খুবই সহজ নয়? প্রতিটা ছবিতে যন্ত্রণা থাকা জরুরি নয়, কখনও কখনও নিজের কাজটা ঠিকঠাক করাই যথেষ্ট।
৩২৫ কোটি টাকার বিশাল বাজেটের ছবি ওয়ার ২। আর বিশ্বজুড়ে ‘ওয়ার ২’ আয় করেছে ৩৬৪.২৫ কোটি টাকা। কিন্তু এই ছবি ঘিরে এমন একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল যে,মুক্তির সময় ছবিটির বাজেট তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু দর্শকদের ভালোবাসায় ছবিটি ধীরে ধীরে ২০২৫ সালের চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি হয়ে ওঠে। ‘ওয়ার’ আয় করেছিল ৪৭১ কোটি টাকা। যদিও ‘ওয়ার ২’, সেই ৪৭১ কোটি টাকার কাছাকাছিও পৌঁছতে পারেনি। তবুও ওটিটিতে নতুন জীবন পেতে পারে এই অ্যাকশন-থ্রিলারে মোড়া ছবিটি। কারণ ডিজিটাল দর্শকদের কাছে এখনও রয়েছে কবীর বনাম বিক্রম-এর কৌতুহল।