আমেরিকায় ব্লু সুনামি
রেজাল্ট কী হলো?
ডেমোক্র্যাটরা ইতিহাস গড়ে দিয়েছে। হাউস এবং সেনেটে দখল বাড়ছে ডেমোক্র্যাটদের। টেক্সাসের মতো লাল রাজ্যও নীল হয়ে গেছে। মানুষ ভোট দিয়েছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে – ৪১% ভোটার বলেছে তারা ট্রাম্পকে বিরোধিতা করার জন্য ভোট দিয়েছে।

ট্রাম্পের ভবিষ্যতের উপর প্রভাব:
১. আইন পাস করা বন্ধ: এবার ট্রাম্প কোনো বড় আইন একা পাস করতে পারবেন না। তিনি নিজেই বলেছেন, “আমার কাছে শেষ অস্ত্র আছে – ভেটো।” তার মানে তিনি সব বিল আটকে দেবেন।
২. তদন্ত শুরু: এতদিন ডেমোক্র্যাটদের হাতে শুধু মামলা ছিল। এবার তাদের হাতে কমিটির ক্ষমতা। তারা ইরান যুদ্ধ, অভিবাসন অভিযান, খরচ নিয়ে তদন্ত করবে।
৩. ২০২৮-এর লড়াই শুরু: রিপাবলিকান দলের ভিতরেই এখন দোষারোপ শুরু। ট্রাম্প বলছেন, “আমি ব্যালটে ছিলাম না বলেই হারলাম।” কিন্তু দলের অনেকেই বলছে মাগা জোট ভাঙছে।
ইরান যুদ্ধের উপর কী প্রভাব পড়বে?
এই হারের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে ইরান যুদ্ধের উপর।
আমেরিকাতে ৮ মাস ধরে ইরানের সাথে যুদ্ধ চলছে। তার জন্য পেট্রোল, বাজার, সব কিছুর দাম আকাশ ছোঁয়া। আমেরিকার মধ্যবিত্তের পকেটে টান।
এবার সেই যুদ্ধের রাশ টানতে চলেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধের খরচ জোগানো অসম্ভব। ডেমোক্র্যাটরা সেই খরচে কাঁচি চালাতে পারে। নতুন সৈন্য পাঠানো বা বড়সড় হামলার পরিকল্পনায় সেনেটের ছাড়পত্র মিলবে না।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পকে এবার আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা হবে। যুদ্ধ থামবে না ঠিকই, কিন্তু আর বাড়তেও দেওয়া হবে না।
এবার ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেস কী করবে?
- টাকা আটকে দেবে: যুদ্ধ চালাতে গেলে প্রতি বছর কংগ্রেসের কাছ থেকে টাকা নিতে হয়। এবার ডেমরা সেই টাকা কমিয়ে দেবে বা শর্ত জুড়ে দেবে।
- যুদ্ধ বাড়াতে দেবে না:নতুন সৈনিক পাঠানো বা বড় হামলা করার জন্য সেনেটের অনুমতি লাগবে। ডেম সেনেট তা দেবে না।
- শান্তি আলোচনার চাপ: তারা ট্রাম্পকে বাধ্য করবে ইরানের সাথে আলোচনায় বসতে, যুদ্ধ না বাড়িয়ে।
এক কথায়, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকবেন ২০২৯-এর জানুয়ারি পর্যন্ত, কিন্তু শেষ ২ বছর তিনি হবেন খোঁড়া হাঁস একা কিছুই করতে পারবেন না।