আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফের নজর কাড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা। ৩ নভেম্বরের ভোটে কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রদেশের আইনসভায় একাধিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। কেউ ধরে রাখলেন পুরনো আসন, কেউ আবার নতুন করে জায়গা করে নিলেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তালিকায়। ফলে মার্কিন রাজনীতিতে ভারতীয়-আমেরিকানদের উপস্থিতি আরও জোরালো হল।

ফ্লোরিডার ২২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্র্যাট পিয়া দান্ডিয়া রিপাবলিকান ব্যবসায়ী ক্যাসি আসকারকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। প্রায় ৫২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি। ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান দান্ডিয়া পেশায় শিক্ষক ও স্কুলের অধ্যক্ষ ছিলেন। পরে হোয়াইট হাউস ফেলো এবং অ্যাপলের জননীতি সংক্রান্ত কাজেও যুক্ত ছিলেন।
ওয়াশিংটনের ৭ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন প্রমীলা জয়াপাল। ২০১৬ সালে প্রথম কংগ্রেসে যাওয়া জয়াপাল দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রথম মহিলা হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছিলেন। অভিবাসন, শ্রমিক অধিকার ও স্বাস্থ্যনীতিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।
ভার্জিনিয়ার ১০ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে দ্বিতীয় বার জিতেছেন সুহাস সুব্রহ্মণ্যম। ২০২৪ সালে প্রথম বার হাউসে নির্বাচিত এই ডেমোক্র্যাটের আগে ভার্জিনিয়া আইনসভায় কাজের অভিজ্ঞতা ছিল।
ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে জয় ধরে রেখেছেন রো খান্না। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীও ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান রিতেশ ট্যান্ডন। একই ভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার ৩ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে জয়ী হয়েছেন দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য অমি বেরা।
রাজ্য রাজনীতিতেও সাফল্য এসেছে। মেরিল্যান্ডের লেফটেন্যান্ট গভর্নর অরুণা মিলার গভর্নর ওয়েস মুরের সঙ্গে ফের জয়ী হয়েছেন। আর ইলিনয় সেনেটের ২৬ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন তরুণ ভারতীয়-আমেরিকান নাবিলা সৈয়দ। ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে তাঁর এই জয় মার্কিন রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতৃত্বের উত্থানকেই সামনে আনল।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর মধ্যবর্তী ভোটে ভারতীয়-আমেরিকানদের সাফল্য আরও এক বার দেখিয়ে দিল—মার্কিন রাজনীতিতে এই সম্প্রদায়ের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।