‘ভরসা ইন, ভয় আউট’-এর পর এ বার বাংলার শিল্পক্ষেত্রে নতুন স্লোগান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর— ‘ইনভেস্ট ইন বেঙ্গল, গ্রো উইথ বেঙ্গল’। বৃহস্পতিবার ইকো পার্কে পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসারনীতি ২০২৬ প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ নিয়ে একাধিক বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলের ‘তোলাবাজি’ ও ‘সিন্ডিকেটরাজ’ এখন আর নেই। বিনিয়োগকারীদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন শিল্পনীতিতে মহিলা ও রূপান্তরকামীদের আরও বেশি সংখ্যায় কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য আর্থিক সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই ক্ষেত্রে নিয়োগ বাড়াতে জোর দিচ্ছে রাজ্য। নিয়োগকর্তার আর্থিক বোঝা কমাতে কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে বড় অঙ্কের সরকারি ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
এ দিন শিল্পপতিদের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে আসে তোলাবাজির প্রসঙ্গ। শিল্পমহলের একাংশ মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, বর্তমানে সেই সমস্যা অনেকটাই কমেছে। এর পরেই শুভেন্দু বলেন, তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘সিন্ডিকেটরাজ’ বন্ধ করা হয়েছে। পান-সুপারি থেকে বড় শিল্প— সর্বত্রই আগে এই সমস্যা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে আগামী দিনে কেউ শিল্পপতিদের কাছ থেকে তোলা আদায়ের চেষ্টা করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, অভিযোগ জানানোর জন্য সরকারের নির্দিষ্ট নম্বর চালু রয়েছে। সেখানে ফোন করে অভিযোগ জানালেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি ১৫ মিনিটের মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদেরও স্বচ্ছতা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, শিল্পের প্রসার ছাড়া বাংলার উন্নয়ন সম্ভব নয়। আগের সরকারের আমলে একাধিক বার বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন হলেও প্রত্যাশিত বিনিয়োগ আসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এখন শিল্প ও কর্মসংস্থানকে সামনে রেখেই বাংলার অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাজ্য সরকারের।