দিল্লির শাহদরা জেলার কৃষ্ণনগর থানা এলাকার শান্তি মহল্লার ৬ নম্বর গলিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আগুন লাগার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দিল্লি দমকল বিভাগের একাধিক ইঞ্জিন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জোরকদমে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
স্থানীয় বাসিন্দা অনিল বর্মার দাবি, শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুন লেগেছে। তাঁর কথায়, আচমকাই আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। শান্তি মহল্লার ৬ নম্বর গলিটি একটি বন্ধ রাস্তা। ওই এলাকার প্রায় সমস্ত বাড়িই গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেখানে মূলত কাপড়ের গুদাম রয়েছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে গুদামের মালিক ও কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তবে ভিতরে কেউ আটকে নেই এবং সকলেই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এই অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই দিল্লির আরও একটি জায়গায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। করোলবাগের গফফর মার্কেটের চেনওয়ালি গলির পুরী প্লাজার ১৩ নম্বর ব্লকের একটি দোকানে ভয়াবহ আগুন লাগে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর নেই। তবে বেশ কিছু সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া অথবা অতিরিক্ত চার্জ দেওয়ার কারণেই আগুন লাগতে পারে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে দমকল বিভাগ এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের পরিদর্শকের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হবে। পাশাপাশি, ভবনে অন্য কোনও দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL)।
করোলবাগের এই অগ্নিকাণ্ডে দু’টি বহুতলে থাকা প্রায় ১৪০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তিনি গোটা পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন। আগুন সম্পূর্ণ নিভে যাওয়ার পর দিল্লি পুরনিগম (MCD) ওই দু’টি ভবন খালি করানোর ব্যবস্থা করবে। দিল্লি দমকল বিভাগের ডিভিশনাল অফিসার মুকেশ বর্মা জানিয়েছেন, প্রথমে আগুনের মাত্রা কম থাকলেও পরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত আগুনকে মাঝারি মাত্রার বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, একটি ব্যাটারির দোকান থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
মুকেশ বর্মা আরও জানান, প্রথমে একটি দোকানে আগুন লাগে। পরে ধীরে ধীরে তা উপরের তলাগুলিতেও ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নেভাতে মোট ২৭টি দমকলের ইঞ্জিন এবং প্রায় ১২৫ জন কর্মীকে কাজে লাগানো হয়। সরু গলির কারণে দমকলের কাজ বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। তার উপর উৎসবের মরশুম হওয়ায় দোকানগুলিতে প্রচুর পরিমাণে জিনিসপত্র মজুত ছিল। তার মধ্যে অনেক সামগ্রীই সহজে আগুন ধরে যাওয়ার মতো। ফলে আগুন নেভাতে আরও সমস্যায় পড়তে হয় দমকলকর্মীদের। তিনি আরও বলেন, কয়েকটি দোকানে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র থাকলেও এই ধরনের বহুতলের জন্য যে উন্নত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, তা সেখানে ছিল না।