মাম্পি রায়, সাংবাদিক : দেশের প্রধান বিচারপতি পদে শপথ নিলেন বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি হলেন সুপ্রিমকোর্টের ৫৩তম বিচারপতি। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করালেন। একেবারে নজিরবিহীন বিষয় হল। হিন্দিতে শপথগ্রহণ করলেন তিনি। শপথগ্রহণের পরে প্রাক্তন সিজেআই বিআর গবাইকে আলিঙ্গন করে অভিনন্দন জানান।
চিফ জাস্টিস অফ ইন্ডিয়া সূর্যকান্তের শপথগ্রহণ ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছিল। কারণ অনুষ্ঠানে ৬টি দেশ ভূটান, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, মরিশাস, নেপাল, শ্রীলঙ্কার প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিও উপস্থিত ছিলেন। এই প্রথম কোনও সিজেআই শপথগ্রহণ যেখানে এত বড় বিদেশি আদালতের প্রতিনিধিদল এসেছেন।

৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত চলবে কার্যকাল
১৯৬২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হরিয়ানার হিসার জেলায় একটি শিক্ষক পরিবারে জন্ম বিচারপতি সূর্যকান্তের। ছোট থেকেই গ্রামের পরিবেশে অভ্যস্ত ছিলেন। শহুরে আদবকায়দা থেকে অনেক দূরে ছিলেন তিনি। দশম শ্রেণিতে বোর্ড পরীক্ষা দেওয়ার জন্য হিসারের হান্সি কসবেতে যান। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলেই পড়াশোনা করেছেন বিচারপতি সূর্যকান্ত। সেই স্কুলে পড়ুয়াদের বসার জন্য বেঞ্চও ছিল না।
হিমাচল হাইকোর্ট থেকে সোজা সুপ্রিমকোর্টের সফর
২৪ নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টের ৫৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথগ্রহণ করলেন বিচারপতি সূর্যকান্ত। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত তাঁর কার্যকাল চলবে। কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্য়ালয় থেকে আইনে স্নাতক বিচারপতি সূর্যকান্ত। তারপর হিমাচলপ্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন তিনি। তারপর সোজা সুপ্রিমকোর্টে গিয়েছেন তিনি। বিচারপতি হিসেবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিচার করেছেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে ৩৭০ ধারা বিলোপ, পেগাসাস স্পাইওয়্যার তদন্ত, রাজদ্রোহ আইনে স্থগিতাদেশের নির্দেশ এবং শীর্ষ আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশনে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের মতো নির্দেশ।
২০১৯ সালে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি
১৯৮১ সালে হিসারের গভর্নমেন্ট পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেন বিচারপতি সূর্যকান্ত। ১৯৮৪ সালে রোহতকে মহর্ষি দয়ানন্দ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। ওইবছরই তিনি আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন হিসারের জেলা আদালতে। কিন্তু ১৯৮৫ সালে তিনি পঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্টে প্র্যাক্টিস করার জন্য চণ্ডীগড়ে যান। ২০০০ সালের জুলাই মাসে অ্যাডভোকেট জেনারেল পদে উন্নীত হন। ২০০১ সালের মার্চে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হন। ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসে পঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্টে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের প্রধানবিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০১৯ সালের ২৪ মে, হিমাচলপ্রদেশ হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন বিচারপতি সূর্যকান্ত।
সুপ্রিমকোর্টেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়দান
সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি হিসেবেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার করেছেন বিচারপতি সূর্যকান্ত। সুপ্রিমকোর্টে প্রায় ৮০টি মামলার রায় দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ- আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ১৯৬৭ সালের সিদ্ধান্ত খারিজ করেছেন। যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যালঘু মর্যাদা পুনর্বিবেচনার পথ উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছে। এছাড়া নাগরিকত্ব আইনের ৬এ ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলার রায়। দিল্লির আবগারি নীতি মামলায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে জামিন দেওয়ার মতো মামলাগুলিতেও তাঁর রায় গুরুত্বপূর্ণ।