রিয়া হালদার, সাংবাদিক : দেখতে দেখতে শেষ হতে চলল ২০২৫ সাল। চলতি বছরে বাংলা হিন্দি মিলিয়ে একাধিক সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। যার মধ্যে কিছু ছবির বক্স অফিসে বিরাট সাফল্যের মুখ দেখেছে। আবার কিছু সিনেমা বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু এমন একাধিক ছবি রয়েছে, যা শুধু বক্স অফিসেই সাফল্য অর্জন করেনি, দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। তবে আজ আপনাদের জানাবো কোন ১০টি হিন্দি সিনেমা সেরার সেরা তালিকায় জায়গা পেল এবং সর্বোচ্চ আয় হল কোন ছবিতে ? যারা সিনেমাপ্রেমী রয়েছেন তারা নিশ্চই কিছুটা হলেও আন্দাজ করেই ফেলেছেন। কিন্তু যারা আন্দাজ করতে পারছেন না, কার পরে কাকে রাখবেন তাদের জন্য আজকের এই প্রতিবেদন।

১০. যে ছবিটি জায়গা পেল সেই ছবিটির বাজেট ছিল আনুমানিক ১৫০ কোটি টাকা। যদিও আয় তার থেকে কমই হয়েছে। কত আয় হয়েছে, ১৪৪ কোটি। ছবির নাম কেশরী চ্যাপ্টার ২। এই সিনেমা অক্ষয়ের ২০১৯ সালের চলচ্চিত্র কেশরী-র সিক্যুয়েল ছিল। যে ছবিটির মূল গল্প জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের পর এর ষড়যন্ত্র উন্মোচনের জন্য সি. শঙ্করন নায়ার ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই শুরু করেন।
৯. জলি এল এল বি ৩। এই ছবির বাজেট ছিল আনুমানিক ১২০ কোটি। আয় হয়েছেন ১৬২.৪৫ কোটি। ছবিতে অভিনয় করেছেন হুমা কুরেশি, সৌরভ শুক্লা, অমৃতা রাও, সীমা বিশ্বাস, রাম কাপুর,সহ আরও অনেকে। বলিউডে কমেডি ধারায় একটি নতুন মান স্থাপন করেছে এই ছবি।
৮. কোন সিনেমাটি রয়েছে। একটি অ্যাকশন-ড্রামা চলচ্চিত্র। যা ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত। যেখানে পাকিস্তানের সারগোধা বিমানঘাঁটিতে প্রথম ভারতীয় বিমান হামলা দেখানো হয়েছে। পরিচালক সন্দীপ কেউলানি এবং অভিষেক কাপুরের পরিচালালিত স্কাইফোর্স সিনেমা। ছবির বাজেট ছিল ১৬০ কোটি এবং আয় হয়েছে ১৫০ কোটি।
৭. সিকান্দার। একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরে তার অতীত পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা। এই প্রচেষ্টার সময়, সিকান্দার একজন প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতিকের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। যে ছবির বাজেট ছিল ১৮০ কোটি। এবং আয় হয়েছে ১৮৪ কোটি।
৬. এই বছর বক্স অফিসে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে হাউসফুল ৫। আসলে একটি ক্রুজ জাহাজে সংঘটিত একটি খুনের রহস্য নিয়ে তৈরি কমেডি। এবং এই ছবির অভিনেতারা তাদের কমিক টাইমিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত হাসির খোরাক জুগিয়েছেন। বাজেট ছিল ২৪০ কোটি এবং আয় হয়েছে ২৮৮ কোটি।
৫. রেইড ২। যে ছবির বাজেট ছিল প্রায় ১২০ কোটি। এবং আয় হয়েছে ২৩৭ কোটি। যে ছবির মূল গল্প হল, আয়কর কর্মকর্তা অময় পট্টনায়েক এবং এক শক্তিশালী,দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ ‘দাদা মনোহর ভাই’-এর মধ্যেকার লড়াই। অময় পট্টনায়েকের চরিত্রে দেখা গিয়েছে অজয় দেবগনকে। এবং মনোহর ভাইয়ের চরিত্রে দেখা গিয়েছে রিতেশ দেশমুখকে।
৪. সিতারে জামিন পার। একজন বাস্কেটবল কোচের গল্প, যাকে সমাজসেবা সম্পন্ন করতে হবে। তার পথ এবং বিশ্বাস যত জটিল, কোচিং করার জন্য নিউরোডাইভারজেন্ট প্রাপ্তবয়স্কদের একটি দলের সাথে যখন তার দেখা হয়, তখন সবকিছুই উন্মোচিত হতে থাকে। আমির খান অভিনীত সিনেমা। ছবিটির বাজেট ছিল ১২২ কোটি। এবং আয় হয়েছে ২৬৭ কোটি।
৩. ওয়ার ২। হৃতিক রোশন অভিনীত একটি সফল ছবি। যে ছবির বাজেট ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি। আয় হয়েছে ৩৬৪ কোটি। ছবির মূল বিষয়বস্তু হল কবির এবং বিক্রমের মধ্যেকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিক্রমের লক্ষ্য হল কবিরকে থামানো, কিন্তু তাদের মধ্যে একটি গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্কও রয়েছে। এই ছবিতে হৃতিক রোশনের চরিত্রটি আগের চেয়ে আরও জটিল এবং নীতিগতভাবে দ্বন্দ্বে রয়েছে, যা ছবির গল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
২. জায়গা পেল কে? বলিউডে বিশাল হিট করেছে এই ছবিটি। একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প। সাইয়ারা। গল্পের মূল চরিত্ররা হলেন একজন গায়ক-গীতিকার এবং একজন সাংবাদিক। তাদের মধ্যে একটি প্রেম এবং সম্পর্কের গল্প দেখানো হয়েছে। দারুণ একটি সিনেমা। ছবির বাজেট ছিল ৪৫ কোটি এবং আয় হয়েছে ৫৭০ কোটি।
১. আপনারা নিশ্চই বুঝে গিয়েছেন। সে সিনেমায় প্রত্যেকটি চরিত্রই ভীষণ মন ছুঁয়েছে। এই সিনেমার কেন্দ্রবিন্দু হলেন ছত্রপতি শিবাজির পুত্র এবং মারাঠা সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় শাসক সম্ভাজিরাজে শিবাজিরাজে ভোঁসলে, যিনি ‘ছাবা’ অর্থাৎ ‘সিংহ শাবক’ নামে পরিচিত। সিনেমাটি মূলত ঔরঙ্গজেবের সঙ্গে সম্ভাজির তুমুল লড়াই এবং তাঁর আত্মত্যাগের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। ভিকি কৌশল, রশ্মিকা মান্ধানা, অক্ষয় খান্না-র মতো অভিনেতা অভিনেত্রারা অভিনয় করেছে এই ছবিতে। ছাবা এই ছবির বাজেট ছিল ১৩০ কোটি এবং আয় হয়েছে ৮০৭ কোটি।
২০২৫ সালের বলিউড বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র শিল্পকে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এরপর আর পিছনে ফিরে তাকানোর কোনও সুযোগ নেই। এই বছর মুক্তিপ্রাপ্ত বেশিরভাগ সিনেমারই নিজস্ব অনন্য গল্প এবং চিত্রনাট্য রয়েছে। আপনাদের মতে কোন বলিউড চলচ্চিত্রটি সেরা বলে মনে হয়েছে জানাতে ভুলবেন না কমেন্টে।