বিশ্বজিৎ নস্কর, সাংবাদিক: ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ভারতের শেয়ার বাজারের পরিস্থিতি বেশ অস্থির এবং চ্যালেঞ্জিং। বিনিয়োগকারীরা খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন, বললেও খারাপ হবে না। তবে বাজারের এই পতনকে বিশ্লেষকরা একটি সাময়িক বিপর্যয় হিসেবেই দেখছেন।

বর্তমান পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হল:
১. সাম্প্রতিক বড় পতন :-
২০২৬ সালের মার্চ মাস ভারতীয় শেয়ার বাজারের জন্য বেশ নেতিবাচক প্রমাণিত হয়েছে। নিফটি ৫০ (Nifty 50) এবং সেনসেক্স (Sensex) গত এক মাসে প্রায় ১০% থেকে ১৩% পর্যন্ত পড়েছে। এটি ২০২০ সালের করোনা মহামারীর পর বাজারের অন্যতম বড় মাসিক পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পতনে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৪১ লক্ষ কোটি টাকা বাজার থেকে মুছে গিয়েছে।
২. পতনের প্রধান কারণসমূহ:-
বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে মূলত আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ কিছু কারণ কাজ করছে:
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে (ইরান-ইজরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র) যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অপরিশোধিত তেলের দাম: যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম হুহু করে বেড়ে ১০০-১১০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চাপ।
ডলারের বিপরীতে রুপির রেকর্ড পতন: ডলারের তুলনায় রুপির দাম ৯৪ ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে, যার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FII) ব্যাপক হারে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নিচ্ছেন।
জিডিপি পূর্বাভাস হ্রাস: গোল্ডম্যান স্যাকস ভারতের ২০২৬ সালের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭% থেকে কমিয়ে ৫.৯% করেছে।
৩. খাদের কিনারা নাকি সুযোগ:-
বাজার বর্তমানে চাপে থাকলেও একে একেবারে “শেষ হয়ে যাওয়া” বলা যাচ্ছে না:
ঘরোয়া বিনিয়োগ: বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিক্রি করলেও ভারতের সাধারণ মানুষ এবং দেশীয় সংস্থাগুলো (DII) ক্রমাগত বিনিয়োগ করে বাজারকে বড় ধসের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে।
মুনাফার সম্ভাবনা: অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে। করপোরেট লাভ (Earnings) এখনও অনেক সেক্টরে ইতিবাচক।
৪. গুরুত্বপূর্ণ স্তরসমূহ :-
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিগতভাবে নিফটির জন্য ২৩,০০০ এবং ২২,৫০০ পয়েন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট জোন। যদি নিফটি এর নিচে স্থায়ী হয়, তবে আরও বড় পতনের আশঙ্কা থাকতে পারে।