মাম্পি রায়, সাংবাদিক : দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ে ইতি টেনে অবশেষে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন নীতীশ কুমার (Nitish Kumar). মঙ্গলবার পটনায় রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা জমা দেন তিনি। একই দিনে এনডিএর বৈঠকে সম্রাট চৌধুরীকে (Samrat Choudhary) বিধায়কদের মধ্যে দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। ফলে তিনিই হচ্ছেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন।

পটনা বিধানসভায় মঙ্গলবার বিকেল চারটে নাগাদ এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়, তাতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তার আগে বিজেপি বিধায়ক দল বৈঠকে নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যেখানে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবরাজ সিং চৌহ্বান (Shivraj Singh Chouhan). সম্রাট চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেন বিজয় কুমার সিনহা এবং সমর্থন জানান রেণু দেবী-সহ একাধিক নেতা।
প্রায় দুই দশক ধরে বিহারের শাসনভার সামলানোর পর সরে দাঁড়ালেন নীতীশ কুমার। এর আগে অবশ্য রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথগ্রহণ করেছেন নীতীশ। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠকের পরই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, নতুন সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা ও পরামর্শ দেবেন।
অন্যদিকে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলা সম্রাট চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া, “এটি শুধুমাত্র একটি পদ নয়, বরং বিহারের মানুষের সেবা করার এক পবিত্র সুযোগ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নেতৃত্ব ও দলের নির্দেশে রাজ্যের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমি।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিবর্তন শুধু নেতৃত্ব বদল নয়, বরং বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন দিকনির্দেশ করছে। যদিও এনডিএ সূত্রে খবর, বর্তমান মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সদস্যকে বহাল রাখা হতে পারে। বড়সড় কোনও রদবদলের সম্ভাবনা আপাতত কম।
এদিকে, নীতীশ কুমারের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে না থাকলেও রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারিত ‘সাত নিশ্চয়’ প্রকল্পগুলিও নতুন সরকার এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে দাবি করা হয়েছে।
বুধবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। সেই অনুষ্ঠানের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বিদায়ের পর নতুন নেতৃত্বে বিহারের উন্নয়ন কোন পথে এগোয়, সেটাই এখন দেখার।