মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। সোমবার সন্ধে থেকেই নির্বাচনী বিধিনিষেধ কার্যকর হয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এইসময় কোনও প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড করার নিয়ম নেই। কিন্তু প্রত্যেকবারের মতো এবারেও সেসবের তোয়াক্কা না করে সিকিম সফরে গিয়ে ফুটবল খেললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী( Narendra Modi)। আর সেই মুহূর্তের ছবি নিজেই ভাগ করে নিলেন সমাজমাধ্যমে। ঘটনাচক্রে, পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগের দিনেই এই পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা।

মঙ্গলবার সিকিম রাজ্য গঠনের সুবর্ণজয়ন্তীর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) পৌঁছন সিকিমে। সরকারি কর্মসূচির ফাঁকেই সকালে গ্যাংটকের একটি মাঠে কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে দেখা যায় তাঁকে। সেই ছবিই পরে পোস্ট করেন তিনি। লেখেন, “গ্যাংটকের মনোরম সকালে ছোট বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলার সঙ্গে কোনও কিছুর তুলনা হয় না।”
প্রধানমন্ত্রীর ওই পোস্টে পশ্চিমবঙ্গের কোনও সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সময়টা তাৎপর্যপূর্ণ। বুধবার পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোট। তার আগে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হয়েছে ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’। এই সময় নির্বাচনী প্রচার নিষিদ্ধ থাকায় সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা না দিয়ে পরোক্ষে আবেগে আঘাত করার কৌশল নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী—এমনই মত অনেকের।

বিশেষ করে ফুটবলকে কেন্দ্র করে এই বার্তা ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। কারণ, দেশের অন্যতম ফুটবলপ্রেমী রাজ্য হিসেবে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গ। কলকাতাকে অনেকেই ভারতীয় ফুটবলের রাজধানী বলে মনে করেন। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ঘিরে আবেগ, পাড়ার মাঠে ফুটবল—সব মিলিয়ে বাঙালির জীবনের অঙ্গ এই খেলা। সেই প্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রীর ফুটবল খেলার ছবি রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
অন্যদিকে, সিকিমেও ফুটবলের জনপ্রিয়তা কম নয়। সেখানকার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই খেলার প্রতি আগ্রহ দীর্ঘদিনের। ভারতের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়ার (Bhaichung Bhutia) মতো ব্যক্তিত্বও এই রাজ্যেরই সন্তান।
এই সফরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প ঘোষণার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে। তবে তার মধ্যেই ফুটবল খেলায় অংশ নেওয়ার ছবি সামনে আসতেই রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। সরাসরি কিছু না বলেও, ফুটবলের মাধ্যমে বাংলার আবেগে ছোঁয়া দেওয়ার চেষ্টা বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের।