মাম্পি রায়, সাংবাদিক : শনিবার সকালে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎ ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়ে গেল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিউটাউনে বিজেপি নেতা তথা বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী-র বাড়িতে যান। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এই প্রথম পৃথকভাবে মিঠুনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন শুভেন্দু। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, “মিঠুনদা এ রাজ্যে বিজেপির জয়ের অন্যতম কারিগর। আমাকে দল মুখ্যমন্ত্রী করেছে, তার পিছনেও ওঁর বড় ভূমিকা রয়েছে। গত ছ’বছর ধরে তিনি নিঃস্বার্থভাবে বাংলায় পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছেন।” তিনি আরও জানান, মিঠুন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তিনি নিজেই তাঁর বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুভেন্দুর কথায়, “আমি বলেছি, আপনি আসবেন কেন? আপনার তৈরি করা মুখ্যমন্ত্রী আপনার কাছেই আসবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে আবেগান্বিতত হয়ে শুভেন্দুকে জড়িয়ে ধরেন মিঠুন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “মিঠুনদার জনপ্রিয়তা শুধু বিজেপির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজনীতির বাইরেও বাংলার মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। আমি অষ্টম শ্রেণির পর আর সিনেমা দেখিনি, কিন্তু মিঠুনদা অন্য জায়গার মানুষ। তিনি মহাগুরু। আমি ওঁর আশীর্বাদ নিতে এসেছি।”
পাল্টা শুভেন্দুর প্রশংসায় ভরিয়ে দেন মিঠুনও। তাঁর বক্তব্য, “এর থেকে ভাল মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে হতে পারে না। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি। শপথ নেওয়ার পর থেকেই উনি কাজ করে চলেছেন। আমরা গর্বিত ওঁকে নিয়ে। আমরা ওঁর পাশেই রয়েছি।”
বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বিজেপির হয়ে প্রচার করেছিলেন মিঠুন। সেই সময় বিভিন্ন সভায় একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, সেই প্রতিশ্রুতিগুলি কীভাবে বাস্তবায়িত করা যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।

মিঠুনও এ দিন স্পষ্ট বার্তা দেন, “যেখানে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সব পূরণ করব। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে যে কাজ করতে বলেছেন, তা অনুসরণ করব।”
উল্লেখ্য, শনিবার থেকেই জেলা সফর শুরু করছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম কর্মসূচি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক। আগামী ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে জেলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। তার আগেই মিঠুন-শুভেন্দু সাক্ষাৎ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে কি কোনও বিশেষ দায়িত্ব পেতে চলেছেন মিঠুন ?