মাম্পি রায়, সাংবাদিক: রাজ্যে মহিলাদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিশন গঠনের ঘোষণা করল নতুন সরকার। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলাদের উপর গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া অপরাধের তদন্তের জন্যই এই কমিশন তৈরি করা হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকে কমিশন পুরোদমে কাজ শুরু করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। কমিশনের চেয়ারপার্সন করা হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়কে (Samapti Chatterjee)। কমিশনের মেম্বার সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেনকে (Damayanti Sen)। সরকারের তরফে সমন্বয়ের কাজও তাঁরাই দেখবেন বলে জানানো হয়েছে।
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বক্তব্য, “গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের উপর, বিশেষ করে এসসি, এসটি এবং সংখ্যালঘু মহিলাদের উপর যে ধরনের অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের জন্যই এই কমিশন গঠন করা হচ্ছে।”
সরকারি সূত্রে খবর, কমিশনের তরফে অভিযোগ জানানোর জন্য পৃথক পোর্টাল, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং ই-মেল পরিষেবা চালু করা হবে। শুধু নতুন অভিযোগ নয়, অতীতে দায়ের হওয়া এবং বিভিন্ন স্তরে পড়ে থাকা অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে। এসসি কমিশন, ওবিসি কমিশন, সংখ্যালঘু কমিশন এবং নারী ও শিশু কমিশনের সুপারিশগুলিও প্রাথমিক ভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কমিশনের সদস্যরা বিভিন্ন জেলা ও থানায় গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করবেন বলেও জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের বয়ান রেকর্ড করা হবে। প্রয়োজনে থানা স্তরে জনশুনানির আয়োজনও করা হতে পারে। কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেই তদন্তের রূপরেখা তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।
তবে সব মামলা কমিশনের আওতায় আসবে না। সুপ্রিম কোর্ট, হাই কোর্ট বা কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যে সব মামলার তদন্ত করছে, সেগুলি এই কমিশনের বাইরে থাকবে। বাকি অভিযোগগুলির ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে পুরনো ফাইল পুনরায় খোলা, চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশও করা হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইতিমধ্যেই মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছে। আপাতত কমিশনের পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। আগামী ১ জুন থেকে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।