রণজিৎ রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার কড়া বার্তা প্রশাসনের। সরকার বদলের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে অবৈধ দখল ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান। সেই তালিকা থেকে বাদ গেল না হাওড়াও। পুরসভার দাবি, বছরের পর বছর নিয়ম ভেঙে তৈরি হয়েছে একাধিক বহুতল। কোথাও অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত তলা, কোথাও আবার সম্পূর্ণ বেআইনি নির্মাণ। এবার সেই সব নির্মাণের বিরুদ্ধেই নামানো হচ্ছে বুলডোজার।

রাজ্যে সরকার গঠনের পর অবৈধ নির্মাণ নিয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে বিজেপি সরকার। এরপরই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু। হাওড়াতেও এই একই নীতিতে কাজ শুরু পুরসভার। গত সপ্তাহে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর থেকে হাওড়া পুরসভাকে সমস্ত বেআইনি বাড়ি চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরেই ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ৬০০টি বেআইনি বাড়ির তালিকা তৈরি করে পুরসভা। এর মধ্যে ৬টি ওয়ার্ডের ৬টি বাড়িকে অবিলম্বে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় পুরসভা।
পালাবদলের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বুলডোজার দিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হয়। বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার বুলডোজার নামল হাওড়াতেও।
হাওড়া পুরসভার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরৎ চ্যাটার্জি রোডের এক বেআইনি ফ্ল্যাট এটি। যা ভাঙতে নিয়ে আসা হয় বুলডোজার। বিল্ডিংয়ের ভিতরে ঢুকে ভাঙার কাজ করেন শ্রমিকরাও। জমির মালিকের নাম বিষ্ণুপদ দত্ত। তাঁর বাড়ি ভেঙেই সেখানে ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ করছিলেন প্রোমোটার পঙ্কজ দত্ত। ৯ মাস আগে এই ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। হাওড়া পুরসভার বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট সূত্রে খবর বিষ্ণুপদ দত্তের এই জমিতে জি প্লাস ওয়ান নির্মাণের অনুমতি ছিল। কিন্তু সেখানে অতিরিক্ত চারটি ফ্লোর তৈরি করা হয়। তাই হাওড়ার চ্যাটার্জি হাটের শরৎ চ্যাটার্জি রোডে সোমবার দুপুরে একটি নির্মিয়মাণ বিল্ডিং ভাঙার কাজ শুরু করে হাওড়া পুরসভা।

পুরসভার দাবি, শুধুমাত্র এই একটি বিল্ডিং নয়, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও ধারাবাহিকভাবে অভিযান চলবে। ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে একাধিক বহুতল ও নির্মীয়মাণ বাড়ি। কোথাও অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত তলা, কোথাও আবার নিয়ম না মেনেই চলছে নির্মাণ। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, নিয়ম ভাঙলে আর কোনও রকম ছাড় নয়।
তবে এই অভিযান ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্নও। দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি নির্মাণ চললেও তা নজরে এল না কেন? পুরসভার একাংশের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যদিও প্রশাসনের দাবি, অতীতের গাফিলতি সরিয়ে এবার কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। একদিকে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বার্তা। এই দুই লক্ষ্য নিয়েই এখন ময়দানে নেমেছে হাওড়া পুরসভা।