মাম্পি রায়,সাংবাদিক : মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুনে মূল অভিযুক্ত রাজকুমার সিং অবশেষে সিবিআইয়ের জালে। মঙ্গলবার ধৃতকে বারাসতের বিশেষ সিবিআই আদালতে পেশ করল সিবিআই (Central Bureau of Investigation)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে ‘মূল শুটার’-এর ভূমিকায় ছিল রাজকুমার।

সোমবার উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগর থেকে রাজকুমারকে গ্রেফতার করে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে অভিযানে সহযোগিতা করে মুজফ্ফরনগর পুলিশও। তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই রাজকুমারের খোঁজ চলছিল। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাকে পাকড়াও করা সম্ভব হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ মে গভীর রাতে মধ্যমগ্রামের কাছে গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ রথ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথ রথ দীর্ঘদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়।
প্রথমে তদন্ত শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। পরে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। নতুন করে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ধারায় খুন, ৬১(১) ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং ১১১(২)(এ) ধারায় সংগঠিত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র আইনের ২৫ ও ২৭ ধারাও যুক্ত করা হয়েছে মামলায়।
চন্দ্রনাথের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিকল্পিত ও পেশাদারি কায়দায় একাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তদন্তকারীদের অনুমান, ঘটনার পিছনে সুসংগঠিত অপরাধচক্র সক্রিয় ছিল।

এই মামলায় আরও তিন জনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। ধৃতরা হল মায়াঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং রাজ সিংহ। বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আদালত ধৃতদের ২৪ মে পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
সরকারি কৌঁসুলি বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে অতিরিক্ত ধারাও যুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। তাঁর কথায়, “তিন জন অভিযুক্তকে ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রমাণ নষ্ট করার ধারাও যুক্ত হয়েছে।”
তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের জেরা করে খুনের নেপথ্যের বৃহত্তর ষড়যন্ত্র এবং সম্ভাব্য মদতদাতাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
সিবিআই সূত্রে জানা যায়, উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজকুমারকে। তদন্তকারীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে ‘মূল শুটার’-এর ভূমিকায় ছিল সে। তবে অভিযুক্তের বাবা ত্রিভুবন নারায়ণ সিংহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এই ঘটনায় ওর ভূমিকা নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। সত্যিটা সিবিআই-ই খুঁজে বার করবে।”