আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : আহা কি শান্ত ফলতা। কি শান্ত ছেলে জাহাঙ্গির। কী এমন দাওয়াই পড়ল, যে ছেলের দস্যিপনায় একমাস আগেও ফলতায় নির্বাচনে ছিল ভয় ভীতির পরিবেশ তা একেবারে বদলে গেল। নির্বাচনের দিন টিকিটি দেখা গেল না জাহাঙ্গির ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের। জাহাঙ্গিরের বাড়িতে পর্যন্ত তালা। তলপিতলপা গুটিয়ে কোথায় নিরুদ্দেশ হলেন জাহাঙ্গির? কে তাঁকে দিল আশ্রয় ? তবে সরষের মধ্যে ভূত লুকিয়ে ? ফলতার দামাল ছেলে কি ফিরবে নতুন ভূমিকায় ?

ফলতার শ্রীরামপুর খান পাড়া। রংবিহীন পেল্লাই বাড়িটা শুধু মাথাতুলে দাঁড়িয়ে। বাড়ির মালিক গা ঢাকা দিয়েছে। পেল্লাই তিনতলা বাড়ি খাঁ খাঁ করছে। কোথায় গেলেন ফলতার সঘোষিত পুষ্পা ওরফে জাহাঙ্গির খান। ফলতায় ভোট চলছে জাহাঙ্গির নেই। একমাস আগেও তো কড়া চোখে ভোট পরিচালনা করেছিলেন তিনি। আর পুর্নির্বাচনে গায়েব। এদিকে জাহাঙ্গির বিহীন ফলতায় ভোট হল উৎসবের মেজাজে। একি বলছেন ফলতার ভোটাররা। জাহাঙ্গিরের ভূত কাঁধ থেকেই নামতেই মুখ খুলেছেন তাঁরা। স্বাধীন বাংলায় এতদিন নাকি নিজের ইচ্ছায় ভোটের লাইনে দাঁড়াতে পারেননি তাঁরা।
ভোট পরিচালনায় জাহাঙ্গিরের জুরি মেলা ভার। শৈশবে টুকলি করার নানান গল্প ঘুরে ফেরে স্কুল কলেজের গন্ডিতে। কিন্তু ভোটেও টুকলি। হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন যাতে জাহাঙ্গির ছিল সিদ্ধহস্ত। না না আমরা বলছি না ফলতার মানুষই বলছে। বোতামে সেলোটেপ থেকে সুগন্ধি লাগিয়ে ভোট ভাবতে পারছেন কি ইউনিক আইডিয়া। খুলে বললে গল্পটা ঠিক এইরকম। নির্দিষ্ট বোতামে স্প্রে করা থাকতো সুগন্ধি। যদি কোনও ভোটার ওই নির্দিষ্ট বোতাম না টিপতো তার হাতে লাগতো না সুগন্ধি। আর কথাটা জাহাঙ্গিরের কানে গেলে তার আতিথেয়তায় কোনও খমতি রাখতো না ফলতার পুষ্পা। নিজের কানেই শুনুন কী বলছেন ভোটাররা।
গনতন্ত্রে এও কি সম্ভব। তাই জাহাঙ্গির বিপাকে পড়তেই একে একে বেরিয়ে আসছে তার নানা কীর্তিকলাপ। অনেকেই তো প্রশ্ন ছুঁড়েছেন তবে কি ডায়মন্ড হারবারে কল্পনাতীত ভোটদানের পিছনেও কি রয়েছে জাহাঙ্গিরের হাতযশ। গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ফালতার একাধিক বুথ থেকে ইভিএমের বোতামে সেলোটেপ ,সুগন্ধি লাগিয়ে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। তৎকালীন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত স্বয়ং এলাকা পরিদর্শন করে প্রায় ৬০টি বুথে ইভিএম টেম্পারিং বা কারচুপির প্রমাণ পান। এছাড়া বুথের ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়েবকাস্টিংয়ের ফুটেজও নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পোলিং অফিসার ও বুথ স্তরের আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাই এই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। সেই মতো ফলতায় হয় ভোট।বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথম ভোট বলে কথা। ভোটারদের খাতিরদারির অভাব ছিল না বুথে বুথে। পুনর্নির্বাচনে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৪৪ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩০০ জন। মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ১৫ হাজার ১৩৫ জন। এছাড়াও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৯ জন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক ভোটারকে নির্বিঘ্নে ভোটদানের সুযোগ করে দেওয়া হয় সুশৃঙ্খল ভাবে । ভোটকেন্দ্রগুলিতে ভোটারদের সুবিধার জন্য পানীয় জল, বিশ্রামের ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাও রাখা হয়েছিল। প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ভোটারদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থাও দেখা গিয়েছে বেশ কিছু বুথে। ফলতায় এভাবে শান্তিতে ভোট হতে দেখে জাহাঙ্গির দূর থেকে হয়তো ভাবছে আহা তাঁর সোনার ফলতায় একি কাণ্ড। আগামী ২৪ তারিখ ভোটের ফল বেরোবে ফলতায়। জাহাঙ্গির শেষ বেলায় লেজ গুটিয়ে পালাতে ফলতায় ত্রিমুখী লড়াই। ফলতা কে জেতে তার দিকে যেমন নজর থাকবে তেমনি নজর থাকবে জাহাঙ্গিরের দিকে। জাহাঙ্গির লড়াইয়ে না থাকলেও তাঁর নামে বোতাম তো ছিল ভোটে। আদৌ কি জাহাঙ্গিরের কপালে ভোট জুটবে তার দিকেও থাকবে নজর।