মাম্পি রায়, সাংবাদিক : অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হল শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া এলাকায়। রাজ্য সরকার ২৭ কিলোমিটার জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে তুলে দেওয়ার পরই শুরু হয়েছে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের কাজ। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ।

ইতিমধ্যেই সীমান্তবর্তী এলাকায় জমি সমতল করার কাজ ও প্রাথমিক পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে বিএসএফ। বহু দিন ধরে ঝুলে থাকা জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ ছিল।
ফাঁসিদেওয়ার বাসিন্দা অনিল ঘোষ বলেন, “এখানে আগে কোনও নিরাপত্তা ছিল না। গবাদি পশু পালন করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। গরু রাখার মানেই ছিল বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের হাতে নিজেদের তুলে দেওয়া। এটা শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন ছিল।” তাঁর দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং এখন এলাকায় অনেকটাই নিরাপদ বোধ করছেন তাঁরা।
একই সুর শোনা গিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা নারায়ণ সাহার গলাতেও। তাঁর কথায়, “আমরা বহু দিন ধরে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার দাবি জানাচ্ছিলাম। কিন্তু নানা কারণে তা হয়নি। এখন বিএসএফকে দ্রুত কাজের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীরা খুব খুশি। এখন অন্তত নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারছি।”
আর এক বাসিন্দা শিবম মোদকের মতে, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “আগে সব সময় একটা আতঙ্ক কাজ করত। কখন কী হবে বোঝা যেত না। ২৭ কিলোমিটার জমি বিএসএফকে দেওয়ায় এখন স্বস্তি ফিরেছে।”
কয়েক দিন আগেই হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছিলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরে রাজ্য সরকার প্রস্তুত। পাশাপাশি সীমান্ত চৌকি (বিওপি) ও বিএসএফের পরিকাঠামো তৈরির জন্য অতিরিক্ত জমিও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
সেই সময় পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সহযোগিতা না করার অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, জমি হস্তান্তরে দীর্ঘসূত্রতার জেরেই সীমান্ত সুরক্ষার কাজ ব্যাহত হয়েছিল। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে, সীমান্তে কাঁটাতারের কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তির হাওয়া ফাঁসিদেওয়া ও সংলগ্ন এলাকায়। প্রশাসনের আশা, এর ফলে সীমান্ত সুরক্ষা আরও জোরদার হবে।