বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর বিপাকে তৃণমূল। জেলায় জেলায় নেতারা পড়েছেন বড় বিপদের মুখে। এতদিন যে কাটমানির টাকা আদায় করেছিলেন তাঁরা, এবার সব ফেরত দিতে হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসবায় বিজেপি কর্মীর টাকা ফেরত দিলেন তৃণমূলের বুথ সভাপতি। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরে গোসাবা থানার অন্তর্গত শম্ভুনগরে সন্তোষ জানা নামে বিজেপি কর্মীর দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

তাঁকে মারধর করার ও বাড়ি ভাঙচুরের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিজেপি কর্মী তৃণমূলের স্থানীয় বুথ সভাপতি পরিতোষ দাসের কাছে গেলে তিনি ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। বিজেপি কর্মীর থেকে ৮০ হাজার টাকা আদায় করে। সন্তোষ জানার অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত ২ দুষ্কৃতী আরও ১০ হাজার টাকা আদায় করে তাঁর থেকে। নতুন সরকার আসার পরে গোসাবা থানা ও বিজেপি পরিচালিত শম্ভুনগর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে অভিযোগ করেন বিজেপি কর্মী। সেই কথা জানতে পেরেই গতকাল তাঁর হাতে ৮০ হাজার টাকা তুলে দেন তৃণমূলের বুথ সভাপতি।
বিজেপি কর্মী সন্তোষ জানা জানান, ”২০২১ সালে বিজেপি করার অপরাধে আমার দোকান দখল করে তৃণমূলের পার্টি অফিস বানায়। এরকম পরিস্থিতিতে আমি ভেঙে পড়ি। তখন তৃণমূলের বুথ সভাপতি পরিতোষ দাস-এর কাছে যাই। তিনি আমার কাছে ১ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। আমি তখন অ্যাকাউন্টে ৪০ হাজার আর নগদ ৪০ হাজার টাকা দিই। সেই টাকা আমায় ফেরত দিলেন পরিতোষ দাস।’
একই ভাবে টাকা ফেরতের চিত্র দেখা যাচ্ছে জেলায় জেলায়। রাজ্যে পালাবদলের পর, বিজেপি কর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরাতে বাধ্য হলেন তৃণমূল নেতারা। উল্লেখ্য, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মীরা গ্রামে ফিরতে প্রত্যেকের কাছ থেকে জরিমানা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ৫ বছর পর সরকার পরিবর্তন হতেই সেই টাকা ফেরত দিলেন তৃণমূল নেতারা। চাইলেন ক্ষমাও।