মাম্পি রায়, সাংবাদিক : বাংলা চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ টলিপাড়া। বুধবার কলকাতার গড়িয়াহাট এলাকায় বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, স্ত্রীয়ের গড়িয়াহাটের বাড়িতে ছিলেন অনীক। সেখান থেকেই আচমকা ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। ঘটনায় ঠিক কী ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। পরিচালকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, অনীকের মেয়ে বিদেশে থাকেন। তিনি কলকাতায় পৌঁছনোর পরই পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

পরিচালকের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের আবহ তৈরি হয় বাংলা চলচ্চিত্র মহলে। তাঁর মরদেহ শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয় নন্দনে। সেখানে শিল্পী, কলাকুশলী থেকে শুরু করে অসংখ্য অনুরাগী ভিড় জমান। বহু তারকাই সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেছেন।
অভিনেতা জিৎ এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “অনীক দত্ত ছিলেন অসাধারণ চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং এক সৃজনশীল গল্পকার। বাংলা সিনেমায় তিনি নিজের আলাদা ছাপ রেখে গিয়েছেন।” বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ও এই মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করে বলেন, “বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জন্য এটা বিরাট ক্ষতি। তিনি শুধু জাতীয় স্তরের খ্যাতনামা পরিচালকই নন, অত্যন্ত ভাল মানুষও ছিলেন।”
বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষও অনীকের চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বকীয়তার প্রশংসা করেন। তাঁর কথায়, “অনীকদার ছবির আলাদা ভাষা ছিল। শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়েছে। এখনও তাঁর অনেক কিছু দেওয়ার ছিল।”
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সমাজমাধ্যমে শোকবার্তা দিয়েছেন। তিনি লেখেন, “অনীক দত্তের অকালপ্রয়াণে আমি গভীর ভাবে মর্মাহত। বাংলা সিনেমায় তাঁর অবদান অমূল্য। তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। একই সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর রহস্যজনক পরিস্থিতির পূর্ণ তদন্ত হোক, সেই আশাও রাখছি।”
বাংলা চলচ্চিত্রে ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা ও তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গধর্মী নির্মাণশৈলীর জন্য বিশেষ পরিচিত ছিলেন অনীক দত্ত। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘অপরাজিত’-সহ একাধিক ছবিতে তিনি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সিনেমা হারাল এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর।