মাম্পি রায়, সাংবাদিক : সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূলের পার্টি অফিসে পৌঁছল সিআইডির বিশেষ দল। তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে ছিল কলকাতা পুলিশের একটি দল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

তদন্তকারী সূত্রে খবর, বিকেলে প্রায় ১৭ সদস্যের একটি দল ৩০/বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে পৌঁছয়। ওই ঠিকানাতেই রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের একটি পার্টি অফিস। সই জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্তের সূত্র ধরেই সেখানে তল্লাশি চালানোর উদ্যোগ নেয় সিআইডি।
প্রথমে তদন্তকারীদের কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে বলা হয়। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে কার্যালয়ে তল্লাশি চালানোর অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু তদন্তকারী আধিকারিকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আদালতসম্মত প্রয়োজনীয় নথি তাঁদের কাছে রয়েছে এবং নির্ধারিত দিনেই তল্লাশি অভিযান চালানো হবে।
এই পরিস্থিতিতে কার্যালয়ের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে তদন্তকারী দলকে আটকে দেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ তথা বেহালা পূর্ব কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল প্রার্থী শুভাশিস চক্রবর্তী। নিজেকে দলীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব উপস্থিত না থাকলে তিনি কাউকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন না।
এর পরেই সিআইডি আধিকারিকদের সঙ্গে শুভাশিসের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। তদন্তকারীরা জানান, তাঁরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং আইনি অনুমতি নিয়েই এসেছেন। তাঁদের দাবি, তল্লাশিতে বাধা দেওয়া হলে তা তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার সামিল হতে পারে। যদিও শুভাশিসের বক্তব্য, তিনি তদন্তে বাধা দিচ্ছেন না, শুধুমাত্র কিছুটা সময় চাইছেন।
পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় এলাকায় মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। তদন্তকারী দল দীর্ঘক্ষণ ঘটনাস্থলেই অবস্থান করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট ছাড়েনি বলে সূত্রের খবর।
ঘটনার পর শুভাশিস বলেন, ‘‘যাঁর নামে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তিনি উপস্থিত থাকলে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। আমি শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে সময় চেয়েছি।’’
সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।