Lucknow, Jun 12 (ANI): Cockroach Janta Party (CJP) founder Abhijeet Dipke speaks during a protest demanding the resignation of Union Education Minister Dharmendra Pradhan over alleged examination-related lapses, at Eco Garden, in Lucknow on Friday. (ANI Photo)
সূচনা পল্যে, সাংবাদিক : ককরোচ জনতা পার্টি- নামটা এখন আর কারও অজানা নয়। গত কয়েকদিনে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংবাদমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে রাজনৈতিক মহল- সর্বত্রই আলোচনা হয়েছে এই সংগঠনকে ঘিরে। ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মোড়কে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ ধীরে ধীরে ছাত্রদের ক্ষোভ, হতাশা এবং পরীক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক নতুন মুখ হয়ে উঠছে। পুনের পর এবার লখনউ। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটছে ককরোচ জনতা পার্টি। কিন্তু কী চাইছে তারা? কেন এত দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এই আন্দোলন? আর দেশের ছাত্রসমাজের মধ্যে কী বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাইছে সিজেপি?

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু দলের জন্ম হয়েছে। কিন্তু খুব কম আন্দোলনের শুরু হয়েছে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ দিয়ে। সিজেপির গল্পটা ঠিক সেখান থেকেই। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন অভিজিৎ দিপকে। একটি মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি মজার ছলে ব্যবহার করেছিলেন “Cockroach Janta Party” নামটি। ভাবেননি সেটাই একদিন জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী সেই পোস্ট শেয়ার করতে শুরু করে। কারণ নামটা নয়- তারা খুঁজে পেয়েছিল নিজেদের ক্ষোভের ভাষা।
কেন “ককরোচ”? আন্দোলনকারীদের ব্যাখ্যা- ককরোচকে যতবার চাপা দেওয়া হোক, সে আবার ফিরে আসে। তেমনই ছাত্রদের কণ্ঠস্বরও বারবার চাপা দেওয়া হলেও তারা আবার ফিরে আসবে। আবার প্রশ্ন করবে। আবার জবাব চাইবে। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের পুনেতে সাভিত্রীবাই ফুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ডঃ আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশে বিক্ষোভ দেখায় সিজেপি। সেখানে প্রকাশ করা হয় পাঁচ দফা দাবি। যার মধ্যে রয়েছে- পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নপত্র নিরাপত্তা জোরদার করা, মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা, ছাত্রদের জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার নিশ্চয়তা এবং শিক্ষা প্রশাসনের দায়বদ্ধতা।
আন্দোলনের মূল দাবি কিন্তু আরও স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য- একটার পর একটা পরীক্ষা বিতর্কের পরও কেউ দায় স্বীকার করছে না। অথচ তার মূল্য দিচ্ছে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী।
আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন লাদাখের পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুকও। তিনি বলেন- যে ভুলের খেসারত ছাত্রছাত্রীদের দিতে হচ্ছে, তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। এখন প্রশ্ন উঠছে- এটা কি শুধুই সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড? নাকি সত্যিই নতুন ছাত্র আন্দোলনের সূচনা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, ভারতের তরুণ প্রজন্ম দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তায় ভুগছে। নিট, সিইউইটি, জেইই, বোর্ড পরীক্ষা- প্রায় প্রতি বছর কোনও না কোনও বিতর্ক সামনে এসেছে। সেই জমে থাকা ক্ষোভই হয়তো এখন সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।

এরই মধ্যে আন্দোলনের পরবর্তী গন্তব্য লখনউ। উত্তরপ্রদেশের ইকো গার্ডেনে শুক্রবার ছাত্র বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করেন অভিজিৎ দিপকে। শুধু লখনউ নয়। দেশজুড়ে প্রচার শুরু করতে চাইছে সিজেপি। তাদের লক্ষ্য- ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে বৃহত্তর আন্দোলন। সেখানে অনির্দিষ্টকালের ধর্নারও ডাক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকরাও চুপ নেই। কেউ বলছেন এটা শুধুই ডিজিটাল হাইপ। কেউ বলছেন রাজনৈতিক শক্তিগুলো এই আন্দোলনকে ব্যবহার করতে পারে। আবার অনেকেই মনে করছেন, যুবসমাজের বাস্তব সমস্যাগুলিকে তুলে ধরার জন্য নতুন ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে।
আরও একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিছু মহলের অভিযোগ, সিজেপির বহু ফলোয়ার নাকি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট। এর জবাবে অভিজিৎ দিপকে দাবি করেছেন- তাদের অধিকাংশ সমর্থকই ভারতীয় নাগরিক। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন- যদি পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন করা ছাত্রছাত্রীরা দেশবিরোধী হয়ে যায়, তাহলে দেশের প্রকৃত নাগরিক কারা? শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউতও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য- এটা দেশের যুবসমাজের ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ। তবে সেই ক্ষোভকে সঠিক পথে পরিচালিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
একটি ব্যঙ্গাত্মক নাম। একটি ভাইরাল পোস্ট। আর তার পরেই জাতীয় স্তরে আলোড়ন। ককরোচ জনতা পার্টি আদৌ রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠবে কিনা, তা ভবিষ্যৎ বলবে। কিন্তু একটা বিষয় পরিষ্কার- দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী আজ শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহি চাইছে। আর সেই দাবি যতদিন থাকবে, ততদিন হয়তো “ককরোচ” শব্দটা শুধু একটি কীট নয়- একটি প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবেই থেকে যাবে।