Prayagraj, Aug 05 (ANI): Allahabad University students sit on the road during a protest over their various demands, in Prayagraj on Wednesday. (ANI Photo)
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, চড়া কোচিং ফি, শিক্ষার সুযোগের অভাব থেকে কর্মসংস্থানের সঙ্কট—একাধিক ইস্যুতে ছাত্র-যুবদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে দেশ জুড়ে প্রচারে নেমেছে কংগ্রেস। সেই কর্মসূচিরই পরবর্তী পর্বে শনিবার প্রয়াগরাজে পৌঁছলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। ‘ছাত্র কি গুঞ্জ ’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে সেখানে পৌঁছতেই দলীয় নেতা-কর্মীরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান রাহুলকে।

শনিবার বিকেল ৫টায় প্রয়াগরাজে ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নানা সমস্যা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে। দলের ছাত্র সংগঠন NSUI এবং যুব কংগ্রেসের সদস্যদেরও এই দেশব্যাপী প্রচারে যুক্ত করা হয়েছে।
তবে প্রয়াগরাজের কর্মসূচি ঘিরে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। কায়স্থ পাঠশালা (কেপি) কলেজের স্পোর্টস গ্রাউন্ড ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। পড়াশোনায় ব্যাঘাত এবং এলাহাবাদ হাই কোর্টের একটি নির্দেশের কথা উল্লেখ করে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য সেই বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ফলে নির্ধারিত সময়েই রাহুলের কর্মসূচি হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়।
প্রয়াগরাজের কর্মসূচি রাহুলের ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ প্রচারের পরবর্তী ধাপ। রাজস্থানের কোটা থেকে ‘ছাত্ররা মিছিলের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল। পরে উত্তরাখণ্ডের দেহরাদূনে ছাত্র ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল। সেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
দেহরাদুনের সভায় এক ছাত্রের বাবা রাহুলকে অনুরোধ করেছিলেন, তাঁর সন্তানের মৃত্যুর ঘটনা সংসদে তুলে ধরতে। যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনও পরিবারকে একই যন্ত্রণা সহ্য করতে না হয়। সেই সভাতেই রাহুল দাবি করেছিলেন, গত এক দশকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে প্রায় সাড়ে সাত কোটি পড়ুয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
রাহুলের অভিযোগ, প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারবার চলছে। তাঁর দাবি ছিল, কোটি কোটি টাকা থাকলে ইন্টারনেট, টেলিগ্রামের মতো মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়া সম্ভব। গত দশকে দেশে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এত ঘটনার পরেও দোষীদের শাস্তির হার কার্যত শূন্য।
কংগ্রেসের ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাশাপাশি কোচিংয়ের বিপুল খরচ, শিক্ষার সুযোগ, চাকরি এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও সরব হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশজুড়ে প্রতিবাদ, জনসংযোগ এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে এই প্রচার চালানো হবে। প্রয়াগরাজের মঞ্চ থেকে সেই আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি ছাত্র-যুবদের সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রকে চাপে রাখাই কংগ্রেসের লক্ষ্য।