প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে বদলাচ্ছে বিশ্বের শক্তির ভারসাম্য। আগামী ২০-৩০ বছরে পৃথিবীর চেহারা ঠিক কী হবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং শিল্প—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আত্মনির্ভর হতে হবে ভারতকে। ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মকেই সেই দায়িত্ব নিতে হবে। শনিবার আইআইটি-দিল্লির ৫৭তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সমাবর্তনে পড়ুয়াদের উদ্দেশে মোদী বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির জেরে আন্তর্জাতিক কৌশলগত সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। আগামী দিনে বিশ্ব, প্রযুক্তি, শিল্প এবং পেশার ধরনও পাল্টাবে। তাই সাফল্যের চাবিকাঠি হল নিয়মিত শেখার অভ্যাস। তাঁর কথায়, আগামী ৩০-৩৫ বছর তরুণদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে তাঁদের প্রতিটি সিদ্ধান্তই ‘বিকশিত ভারত’-এর যাত্রাকে প্রভাবিত করবে। তাই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের কী উপকার হবে এবং দেশের কোন প্রয়োজন পূরণ হবে, তা ভাবার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
আত্মনির্ভর ভারত গড়তে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং শিল্পক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার উপর জোর দেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘চিপ থেকে জাহাজ—সবই এখানেই তৈরি হবে, আপনাদের হাতেই।’’
সেমিকন্ডাক্টর এবং ড্রোন প্রযুক্তির অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষিকাজ, ওষুধ পৌঁছে দেওয়া থেকে দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার বাড়ছে বলে জানান তিনি। তরুণদের নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান।
গবেষণাকেও ভবিষ্যতের বড় সুযোগ হিসাবে তুলে ধরেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী রিসার্চ ফেলোশিপ, ‘রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন স্কিম’ এবং ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। গবেষণা ক্ষেত্রে এক লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থের সংস্থান করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান সাবস্ক্রিপশন’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়ারা বিনা অতিরিক্ত খরচে আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে কৃতী পড়ুয়াদের হাতে প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল, ডিরেক্টরস গোল্ড মেডেল, শঙ্কর দয়াল শর্মা গোল্ড মেডেল এবং পারফেক্ট টেন গোল্ড মেডেল তুলে দেন মোদী।