
শ্রীহরিকোটা থেকে ভোররাতে সফল উৎক্ষেপণ। ফের নিজের ক্ষমতার প্রমাণ দিল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র ‘নটি বয়’! বৃহস্পতিবার গভীর রাতে, ৪ সেপ্টেম্বর রাত ২টো ৫৫ মিনিটে GSLV-F17 রকেটের সাহায্যে মহাকাশে পাড়ি দিল ২,৩৭৬ কেজি ওজনের আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট EOS-05। উৎক্ষেপণের প্রায় ১৯ মিনিটের মাথায়, ভোর ৩টে ১৪ মিনিটে নির্দিষ্ট কক্ষপথের পথে স্যাটেলাইটটিকে সফল ভাবে স্থাপন করে GSLV-F17। ইসরোর জন্য যা নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য।
GSLV Mk-II-কে কেন ‘নটি বয়’ বলা হয়? কারণ তার সাফল্যের খতিয়ান সব সময় খুব মসৃণ নয়। এখনও পর্যন্ত এই রকেটের ১৯টি উৎক্ষেপণের মধ্যে ছ’টি ব্যর্থ হয়েছে। তবে ভারী উপগ্রহকে তুলনামূলক উচ্চ কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতার কারণে ইসরোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎক্ষেপণযান এই GSLV। আর এই রকেটের সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তি আয়ত্ত করার দীর্ঘ লড়াই।
১৯৯০-এর দশকে ভারী উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ভারত। অত্যন্ত ঠান্ডা তরল হাইড্রোজেন ও তরল অক্সিজেনকে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা এই প্রযুক্তি অত্যন্ত জটিল। রাশিয়ার কাছ থেকে প্রযুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেও সম্পূর্ণ প্রযুক্তি হাতে পায়নি ভারত। শেষ পর্যন্ত প্রায় দুই দশকের গবেষণা ও একাধিক ব্যর্থতা পেরিয়ে নিজস্ব ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তি তৈরি করে ইসরো। GSLV কর্মসূচির অন্যতম বড় সাফল্য সেটিই।
EOS-05-ও এই অভিযানের বিশেষ আকর্ষণ। এটি একটি অত্যাধুনিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ, যা জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথ থেকে পৃথিবীর ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করবে। দৃশ্যমান আলো, ইনফ্রারেড, মাল্টিস্পেকট্রাল এবং হাইপারস্পেকট্রাল—বিভিন্ন ব্যান্ডে ছবি তোলার ক্ষমতা রয়েছে উপগ্রহটির। ফলে ভূমি ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ-সহ নানা ক্ষেত্রে উপগ্রহ-নির্ভর তথ্য ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়বে।
এই সাফল্যের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে পরপর PSLV ব্যর্থতার ধাক্কা সামলাচ্ছে ইসরো। সেই পরিস্থিতিতে GSLV-F17-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতীয় মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। শ্রীহরিকোটা থেকে এটি বড় রকেটের ১০৭তম উৎক্ষেপণও। অর্থাৎ, ‘নটি বয়’-এর এই সাফল্য শুধু একটি উপগ্রহকে কক্ষপথে পাঠানো নয়—ভারতের নিজস্ব মহাকাশ প্রযুক্তির উপর আস্থারও বড় পরীক্ষা।