ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হেবরন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ওই এলাকায় একটি ‘জঙ্গি হামলায়’ পাঁচজন আহত হওয়ার পর পশ্চিম তীরজুড়ে সম্পূর্ণ লকডাউন জারির নির্দেশ দেন তিনি। অভিযোগ, হামাসের জঙ্গিরাই এই হামলা চালিয়েছে। ইজরায়েলে নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি থাকতেই এই ঘটনা ঘটল।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
পরিস্থিতি নিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, “কয়েক সপ্তাহ আগেই আমরা আলোচনা করেছিলাম, নির্বাচনের আগে আমাদের শত্রুরা কীভাবে দেশের নাগরিক এবং সেনাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করতে পারে। এখানেও ঠিক সেটাই করার চেষ্টা হয়েছে। ইজরায়েলি সেনারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে হামলা আটকেছেন। কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন। তবে তাঁরা শুধু জঙ্গিদের আটকাননি, সাহসের সঙ্গে পাল্টা লড়াইও করেছেন এবং হামলাকারীদের খতম করেছেন।”
এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনা জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, প্রথমে হামলার উৎসস্থল ধ্বংস করে গোটা এলাকার চেহারা বদলে দেওয়া হবে। শরণার্থী শিবিরগুলিতে যে কঠোর সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল, সেই পদ্ধতিই হেবরনের ওই এলাকায় প্রয়োগ করা হবে। তাঁর দাবি, ওই শিবিরগুলির অনেকগুলিই জঙ্গিদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তিনি আরও বলেন, যে এলাকা থেকে হামলাকারীরা এসেছিল, সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হবে। অস্ত্র এবং জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামো খুঁজে বের করে ধ্বংস করা হবে। নেতানিয়াহু জানান, হেবরন ও হালহুল শহর ঘিরে অবরোধ জারি করা হচ্ছে। প্রয়োজনে অন্যান্য শহরেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ইজরায়েলি সেনাদের জন্য হুমকি তৈরি করছে, এমন বেআইনি বাড়িগুলিও সরিয়ে ফেলার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
সামরিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর বড়সড় অভিযানের প্রস্তুতি দেখেছেন। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর এত বড় অভিযান হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, সেনাবাহিনী এই অভিযানের জন্য প্রস্তুত। কখন অভিযান চালানো হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে উপযুক্ত সময়ে। তবে অভিযান শীঘ্রই শুরু হতে পারে। এদিন ইজরায়েলের বসতি স্থাপনকারীদের প্রশংসাও করেন নেতানিয়াহু। তাঁদের ‘বীর’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে তাঁরা অনুপ্রেরণা।
পাশাপাশি, এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপের পরিকাঠামো ধ্বংস করে আরও ইজরায়েলি বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। নেতানিয়াহুর দাবি, হেবরন-সহ বিভিন্ন এলাকায় ১০০টিরও বেশি নতুন বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ১০০টিরও বেশি নতুন আউটপোস্ট বা ছোট বসতি স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর আগে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী (IDF) জানিয়েছিল, হামলায় জড়িত দুই হামলাকারীকে খতম করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে।