মাম্পি রায়, সাংবাদিক : তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) একাধিক সম্পত্তি নিয়ে এবার নোটিস দিল কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ থেকে পাঠানো ওই নোটিস ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলির বিল্ডিং প্ল্যান, অনুমোদিত নকশা এবং নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র নিয়ে পুরসভায় হাজির হতে বলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই অ্যাকশনে কলকাতা পুরসভা। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের একাধিক সম্পত্তি নিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে। ১৭টি সম্পত্তি নির্মাণে বেনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে এই পুর-নোটিস। অভিষেকের বাবা-মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেও রয়েছে নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। অভিযোগ প্ল্যান মতো নির্মাণ কাজ হয়নি।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আইনের ৪০১ ধারায় এই নোটিস জারি করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে দাবি, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলিতে অনুমোদিত নকশা মেনে নির্মাণকাজ হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ। পাশাপাশি কোথাও অনুমোদিত প্ল্যানের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত বা বেআইনি নির্মাণ হয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে। এমনকি কোনও অনিয়ম থাকলে পরে তা নিয়মানুযায়ী বা রেগুলারাইজ করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে।

যে সম্পত্তিগুলিকে নোটিসের আওতায় আনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে হরিশ মুখার্জি রোডের একটি বাড়ি এবং কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতল ভবন। পুরসভার এক আধিকারিকের বক্তব্য, “এটি মূলত নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখাই উদ্দেশ্য।”
ঘটনাচক্রে, এই নোটিস জারির কয়েক ঘণ্টা আগেই ফলতার নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তার পরপরই পুরসভার এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বর্তমানে কলকাতা পুরসভার পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতেই। আর বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। ফলে শাসকদলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতার সম্পত্তিতে পুরসভার নোটিস ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
যদিও বিরোধীরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে, তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি প্রশাসনিক রুটিন প্রক্রিয়া হলেও, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর অভিষেকের বিষয়ে মন্তব্যের পরই এই পদক্ষেপের মধ্যে যে কোনও সম্পর্ক নেই, তা কাকতালীয় বললেও ভুল হবে না।