উত্তরের আকাশজুড়ে এখন মনোরম আবহাওয়ার হাতছানি। নীল আকাশের বুকে স্পষ্ট ‘স্লিপিং বুদ্ধ’-এর অপরূপ দৃশ্য। পাহাড়ের এই অনুকূল আবহাওয়া উপভোগ করতে দার্জিলিং ও সিকিমে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকেরা। অন্যদিকে, ট্রেকারদের আনাগোনায় সরগরম সান্দাকফু। তবে পাহাড়ের এই আনন্দঘন পরিবেশে এবার বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের পরোক্ষ প্রভাব।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব সরাসরি বাংলার উপকূলে আছড়ে না পড়লেও বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে। শুক্রবার থেকে পরিস্থিতি বদলানোর আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং ও সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি অঞ্চলে টানা বৃষ্টির জেরে ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই দার্জিলিং, সিকিম কিংবা সান্দাকফু ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন, তাঁদের আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেটের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতের আগে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকাও জেনে নেওয়া জরুরি।
তবে আবহাওয়ার এই সম্ভাব্য পরিবর্তন পর্যটন ব্যবসায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মরশুমের শুরুতে পর্যটকদের ভিড় বাড়লেও ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ভ্রমণের পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। হোটেল ব্যবসা থেকে শুরু করে গাড়িচালক ও স্থানীয় পর্যটন-নির্ভর ব্যবসায়ীদেরও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হচ্ছে। এখন বড় প্রশ্ন, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের পরোক্ষ প্রভাবে কি দার্জিলিং-সিকিমের পর্যটনে ছন্দপতন ঘটবে? নাকি আবহাওয়ার সাময়িক পরিবর্তন কাটিয়ে ফের স্বাভাবিক হবে পাহাড়ের পরিস্থিতি? আপাতত পর্যটকদের নজর আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী পূর্বাভাসের দিকে।
আবহাওয়ার মেজাজ বদলাতে শুরু করেছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই আকাশের চেহারায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। রাতের দিকে কলকাতার একাধিক জায়গায় বেশ কিছুক্ষণ ধরে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। শুধু শহরেই নয়, উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি ক্রমশ প্রতিকূল হয়ে উঠছে। বইছে দমকা হাওয়া, উত্তাল হচ্ছে সমুদ্র। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া প্রতিকূল আবহাওয়ার পরিস্থিতির জেরেই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে দৈনন্দিন যাতায়াত থেকে শুরু করে উপকূলবর্তী এলাকার স্বাভাবিক জনজীবনেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে সমুদ্র সংলগ্ন এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। উত্তাল সমুদ্র ও দমকা হাওয়ার কারণে মৎস্যজীবীদের সতর্ক থাকা জরুরি। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকেও আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, পুজোর পর আকাশ পরিষ্কার থাকার যে ছবি দেখা যাচ্ছিল, তাতে এবার ছেদ পড়ার আশঙ্কা। বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর।