আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রায় শেষ। অধিকাংশ প্রদেশেই ভোটপর্ব মিটে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ভোট গণনা। প্রাথমিক গণনার প্রবণতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেনেটে এখনও পর্যন্ত ৪৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা এগিয়ে ৩৪টি আসনে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ওহাইও, টেক্সাস ও আরকানসাসের মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। শুধু সেনেটেই নয়, প্রতিনিধি পরিষদেও একাধিক আসনে এগিয়ে রয়েছেন তাঁরা। এই আসনগুলির বেশ কয়েকটি এতদিন রিপাবলিকানদের দখলে ছিল। এরই মধ্যে নর্থ ক্যারোলিনায় একটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ভোট গণনার প্রাথমিক পর্যায়ে এটিকে তাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যদি শেষপর্যন্ত রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হয়, তাহলে মার্কিন রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক পরিকল্পনার পথে বাধা তৈরি করতে পারবেন। বিশেষ করে, বিভিন্ন বিল আটকে দেওয়া কিংবা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
পাশাপাশি, শুনানি আয়োজন, সরকারি আধিকারিকদের তলব করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত চালানোর ক্ষমতাও বাড়বে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। কারণ, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, সেনেটে ‘ফিলিবাস্টার’ বা দীর্ঘ বিতর্কের মাধ্যমে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার কৌশলও রয়েছে। ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলালেও ট্রাম্পের প্রতিটি সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়া ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সহজ হবে না।
ইরান যুদ্ধ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে ইতিমধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল শুধু আমেরিকার রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এখন দেখার, ভোট গণনার প্রাথমিক প্রবণতা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে কি না, নাকি শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে ডেমোক্র্যাটদের পিছনে ফেলে দেয় রিপাবলিকানরা। পুরো ফলাফল জানতে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তার আগে নির্বাচনের চূড়ান্ত ছবিটা স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে প্রাথমিক গণনার প্রবণতা যে রিপাবলিকান শিবিরের উদ্বেগ বাড়িয়েছে, তা বলাই যায়।