ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত যে শেষ পর্যন্ত আমেরিকার জন্যই বিপদ ডেকে এনেছে, তা কার্যত স্বীকার করে নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর রিপাবলিকান শিবিরের অন্দরে এখন ব্যর্থতার কারণ খোঁজার পালা। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় যথেষ্ট চাপে ট্রাম্প শিবির। এই পরিস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের অভিযোগ, ইরান যুদ্ধের প্রভাবেই ভোটে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে তাঁদের। তবে রাজনৈতিক মহলে উঠছে অন্য প্রশ্নও। যে সংঘাতের সূত্রপাত আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ ঘিরে, তা থামানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে এত দেরি হল কেন? এবার সেই যুদ্ধের রাজনৈতিক মূল্যই কি চোকাতে হচ্ছে ট্রাম্পকে?

মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একাধিক বিষয়কে দায়ী করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ভোটের ফল প্রকাশের পর সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পাশাপাশি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। তবে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই দায় এড়ানোর সুর শোনা যায় তাঁর গলায়। ট্রাম্পের দাবি, নির্বাচনে তাঁর নাম সরাসরি ব্যালটে ছিল না, তাই ভোটারদের সিদ্ধান্তের জন্য তাঁকে দায়ী করা ঠিক নয়। দলের এই বিপর্যয় সত্ত্বেও অবশ্য বিশেষ উদ্বিগ্ন নন তিনি। এমনকী, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনে তড়িঘড়ি কোনও রদবদলের পরিকল্পনাও নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, নির্বাচনে বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইরান যুদ্ধকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্টে তাঁর দাবি, যুদ্ধের জেরে রিপাবলিকান শিবিরের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন কমেছে। পাশাপাশি দেশে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কার্যকারিতা নিয়েও ভোটারদের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ইজরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও একটা বড় অংশের আমেরিকান নাগরিকের অপছন্দের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন ভ্যান্স। তাঁর মতে, ইরান সংঘাত ক্রমশ রিপাবলিকানদের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে যাঁরা ট্রাম্প ও ভ্যান্সের উপর ভরসা রেখে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের একাংশও এবার ডেমোক্র্যাট শিবিরের দিকে ঝুঁকেছেন।
এতদিন মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই কার্যত শক্তিশালী অবস্থানে ছিল রিপাবলিকানরা। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে তাদের দখলে ছিল ২১৮টি আসন, ডেমোক্র্যাটদের ছিল ২১৪টি। অন্যদিকে, সেনেটে ৫৩টি আসন নিয়ে এগিয়ে ছিল রিপাবলিকান শিবির। ডেমোক্র্যাটদের হাতে ছিল ৪৭টি আসন। কিন্তু এবারের নির্বাচ