রাজ্যের রাজনীতিতে বর্তমান সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) এবং তা ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রাপ্যতা নিয়ে তরজা তুঙ্গে। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন সভা থেকে বর্তমান সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে আসছেন। সাম্প্রতিক অতীতে কাকদ্বীপ বা অন্যান্য জনসভা থেকেও তিনি এই প্রকল্পের নানা ত্রুটি ও বঞ্চনার অভিযোগকে সামনে এনেছেন।

এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হল:
১. মমতার প্রধান অভিযোগসমূহ:
উপভোক্তার সংখ্যা ছাঁটাই: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, আগে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৪২ লক্ষ মা-বোনেদের নিয়মিত ভাতা দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালুর পর সেই পরিধি ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে প্রায় ৭৫ শতাংশ মহিলা এই ভাতার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বা তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
শর্তের বেড়াজাল ও প্রতারণা: তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বা প্রকল্পের শুরুতে কোনো কঠিন শর্তের কথা বলা হয়নি। কিন্তু এখন মহিলারা আবেদন করতে গেলে নানা জটিল শর্ত ও যোগ্যতার মাপকাঠিরজুড়ে তাঁদের বঞ্চিত করা হচ্ছে, যা এক ধরণের “প্রতারণা”।
বাছাই করে টাকা দেওয়ার অভিযোগ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক বা অন্যান্য কারণে বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু অংশের মানুষের টাকা আটকে দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের পাওয়ার কথা, তাঁরাও হয়রান হচ্ছেন।
২. সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও আন্দোলন:
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না ঢোকা বা নাম বাদ যাওয়ার জেরে মহিলাদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। অনেক জায়গায় মহিলারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তৃণমূল নেতৃত্ব উপভোক্তাদের নাম, ঠিকানা এবং টাকা না পাওয়ার কারণসহ তালিকা তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে আইনি বা রাজনৈতিকভাবে এর প্রতিকার করা যায়।
৩. শাসক দলের ও সরকারের পালটা অবস্থান:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সমস্ত অভিযোগ ও সমালোচনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে রাজ্যের বর্তমান সরকার। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে (এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী/নেতৃত্বের তরফে) জানানো হয়েছে:
স্বচ্ছতা বজায় রেখেই প্রকৃত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি (Direct Benefit Transfer বা DBT-র মাধ্যমে) টাকা পাঠানো হচ্ছে।
লক্ষ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত এই প্রকল্পের টাকা সফলভাবে পৌঁছে গেছে এবং ভুয়ো বা অযোগ্য উপভোক্তাদের বাদ দিয়েই নিয়মমাফিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সামান্য ভুলত্রুটির কারণে যাঁদের টাকা সাময়িকভাবে আটকে রয়েছে, সেগুলিও যাচাই করে দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, অন্নপূর্ণা যোজনার পেমেন্ট পদ্ধতি, নতুন শর্ত এবং উপভোক্তা ছাঁটাইয়ের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী শিবির তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান সরকারকে লাগাতার নিশানা করছেন, অন্যদিকে সরকারের দাবি—সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুফল সঠিক প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।