বর্ষার দাপটে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ। গত ৩০ জুন থেকে ১ সেপ্টেম্বর—৬৪ দিনে রাজ্যে বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন ২৫৯ জন। একই সময়ে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এমনই তথ্য জানিয়েছে রাজ্য সরকারের স্টেট এমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার (SEOC)।

প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ১০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঘটনায়। তাঁদের মধ্যে ধসের কারণে প্রাণ গিয়েছে ১৮ জনের, জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। পাশাপাশি বর্ষাকালে বিভিন্ন পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন আরও ১৫৩ জন। উচ্চ পার্বত্য এলাকার আদিবাসী জেলা লাহৌল-স্পিতিতেও বর্ষাজনিত বিপর্যয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বর্ষার জেরে রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২০২.৬৪ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পূর্ত দফতরের। ওই দফতরের ক্ষতির পরিমাণ ৯১৪ কোটি টাকারও বেশি। জলশক্তি বিভাগের ক্ষতি ২৫৮ কোটি টাকার বেশি। বিপর্যয়ে সম্পূর্ণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৬০টি বাড়ি। মারা গিয়েছে ৪৬০টি গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণী।
এ দিকে গত ২৪ ঘণ্টার নতুন বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও ১৫০টি রাস্তা বন্ধ। সবচেয়ে বেশি রাস্তা বন্ধ মাণ্ডিতে—৭৮টি। শিমলায় বন্ধ ৩০টি রাস্তা।
শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, বিদ্যুৎ এবং জল সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে। ৩৭৪টি বিদ্যুৎ বণ্টন ট্রান্সফর্মার এলাকা বর্তমানে অচল। মাণ্ডিতে ১২৮টি, শিমলায় ৮৪টি এবং কুল্লুতে ৮১টি ডিটিআর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৪০টি পানীয় জল প্রকল্পও ব্যাহত। হামিরপুরে ২৩টি এবং শিমলায় ১৭টি জল প্রকল্পে পরিষেবা বন্ধ রয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে রাস্তা খুলতে এবং বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে উদ্ধার ও মেরামতির কাজ চালাচ্ছে প্রশাসন। তবে বর্ষা এখনও পুরোপুরি বিদায় না নেওয়ায় নতুন করে বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকছেই।