Kolkata [West Bengal], Apr 30 (ANI): BJP candidate Dilip Ghosh from the Kharagpur Sadar Assembly constituency speaks to the media over the West Bengal Assembly elections 2026, in Kolkata on Thursday. (ANI Video Grab)

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য দফতরকে ঘিরে বিদ্রোহী ও দলীয় নেতৃত্বের সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এই আবহে গোটা ঘটনাকে তৃণমূলের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, দলের কারা প্রকৃত নেতৃত্বে থাকবেন, দলীয় দফতর কিংবা বিধানসভায় কোন পক্ষের অধিকার থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত আইন এবং স্পিকারের উপরই নির্ভর করবে।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ বলেন, ‘‘এটি তৃণমূলের নিজস্ব বিষয়। অফিস কিংবা বিধানসভার আসনে কার অধিকার থাকবে, তা আইন এবং স্পিকারই ঠিক করবেন। তবে গণতন্ত্রে এ ধরনের পরিস্থিতি কাম্য নয়। বিরোধী দলের দায়িত্ব সরকারকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং গণতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখা।’’
এই প্রসঙ্গেই তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন দিলীপ। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় অভিষেকের একাধিক মন্তব্য ছিল উস্কানিমূলক। সেই কারণেই ভোট-পরবর্তী হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কলকাতা হাই কোর্টে ‘ডিজে’ মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় স্বর নমুনা সংগ্রহের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অভিষেকের আবেদনে তাৎক্ষণিক স্বস্তি না মেলার প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ বলেন, ‘‘ভোটের সময় যাঁরা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁদের জন্যই বহু বিজেপি কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন, ঘরবাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। এ ধরনের মানুষের জেলের বাইরের নয়, জেলের ভিতরেই থাকা উচিত।’’
শুক্রবার তৃণমূলের মহানগর রাজ্য দফতরের সামনে মোতায়েন করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী দাবি করে, তারা দলের সদর দফতরের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। তার আগের দিনই ওই গোষ্ঠী নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়ে তৃণমূলের নাম, প্রতীক এবং দলীয় তহবিলের উপর নিজেদের দাবি জানিয়েছিল।
ঋতব্রতের সঙ্গে ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান এবং আখরুজ্জামান দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে নতুন ব্যানার টাঙান। সেখানে প্রবীণ বিধায়ক অরূপ রায়কে দলের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, দফতরের লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে এবং নতুন কার্যকরী কমিটির নামে নতুন চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্রোহী নেতা আখরুজ্জামান বলেন, ‘‘এটাই আমাদের দলের অফিস এবং এই অফিস আমাদের কাছেই থাকবে।’’ যদিও তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁদের ব্যক্তিগত সম্মান রয়েছে, কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব তাঁরা মানছেন না।
এই ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ শিবির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে। অন্য দিকে, কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, দফতরের মালিকানা এবং লিজ সংক্রান্ত সমস্ত নথি খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ৬ জুলাই বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে দুই পক্ষকেই তাদের সাংগঠনিক দাবি ও পাল্টা দাবি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে তৃণমূলের অন্দরের এই সংঘাতের পরবর্তী লড়াই যে আইনি ও সাংগঠনিক ময়দানেই গড়াবে, তা স্পষ্ট।