New Delhi, Aug 06 (ANI): Meta officials leave from the office of Union Minister for Electronics & Information Technology, Ashwini Vaishnaw, as the meeting concludes, in New Delhi on Thursday. (ANI Video Grab)
ডিপফেক, ভুয়ো প্রচার এবং কৃত্রিম ভাবে তৈরি বা বিকৃত করা ছবি-ভিডিয়োর ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এ বার মেটার অ্যালগরিদমে বদল আনার নির্দেশ দিল কেন্দ্র। সরকারি সূত্রের খবর, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলিতে ক্ষতিকর ও বেআইনি কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত এবং সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) মেটাকে নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তন করতে বলেছে। পাশাপাশি, কী ভাবে ভারতীয় আইন মেনে চলা হবে, তার একটি ‘কমপ্লায়েন্স রোডম্যাপ’-ও চাওয়া হয়েছে।

শুক্রবার মেটার প্রযুক্তিগত দলের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের আধিকারিকদের বৈঠক হয়। সেখানে অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট কী ভাবে শনাক্ত এবং নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তার ব্যাখ্যা দেয় মেটা। তবে সরকারি আধিকারিকেরা শুধুমাত্র বর্তমান ব্যবস্থার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বলে সূত্রের দাবি। ডিপফেক, ম্যানিপুলেটেড মিডিয়া এবং প্রচারমূলক কনটেন্টের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রুখতে অ্যালগরিদমে নির্দিষ্ট পরিবর্তনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সরকারের তরফে মেটার কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত সরকারি সংস্থাগুলির পাঠানো ‘টেকডাউন’ অনুরোধ দ্রুত কার্যকর করা এবং ডেটা লোকালাইজ়েশন সংক্রান্ত নিয়ম মানার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। ডিপফেক, বিকৃত ছবি এবং বিভ্রান্তিকর পোস্ট শনাক্ত ও সরানোর ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে।
সূত্রের খবর, আলোচনায় মেটা তাদের বর্তমান ব্যবস্থার কিছু ঘাটতি স্বীকার করেছে। ডিপফেক এবং অন্যান্য সিন্থেটিক কনটেন্ট মোকাবিলায় কী ধরনের প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, তারও রূপরেখা দিয়েছে সংস্থাটি। দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই ফের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি ডিপফেক, শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM) এবং অন্যান্য ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ে মেটার উপর নজরদারি বাড়িয়েছে কেন্দ্র। এই আবহেই কৃত্রিম ভাবে তৈরি কনটেন্ট নিয়ে ভারতের নিয়মও আরও কড়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে সংশোধিত নিয়মে সিন্থেটিক কনটেন্টকে নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। এ ধরনের কনটেন্ট চিহ্নিতকরণ ও লেবেলিংয়ের মতো অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিকে।
সরকারের বক্তব্য, ভারতে ব্যবসা করা সমস্ত সমাজমাধ্যমকেই ভারতীয় আইন মেনে চলতে হবে। ব্যবহারকারী এবং বৃহত্তর সমাজের প্রতি তাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে।