অঙ্কিতা পাল, সাংবাদিক: ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তারপর থেকেই ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা শুরু। পহেলগাঁওকাণ্ডের পর থেকে ভারতে নিষিদ্ধ করা হয় পাকিস্তানের শিল্পীদের। এমনকি, পাকিস্তানি শিল্পীদের সমাজমাধ্যমও বন্ধ করে দেওয়া হয় ভারতে। বলিউডের বেশ কয়েকটি ছবির পোস্টার থেকে বাদ দেওয়া হয় পাক শিল্পীদের মুখ। আর সেই হামলার পর পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমিরের সঙ্গে ‘সর্দারজি ৩’ ছবিতে অভিনয় করেছেন পাঞ্জাবি সুপারস্টার দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ।

এই হরর-কমেডি ছবিতে দিলজিৎ জগ্গি নামে ভূত শিকারির চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিতে হানিয়া ছাড়াও নাসির চিনোতি, ড্যানিয়েল খাওয়ার ও সালিম আলবার মতো পাকিস্তানি অভিনেতারা ছিলেন। বিতর্কের মাঝে দিলজিৎ বলেন, ২৭শে জুন মুক্তি পায় তার এই ছবি। ফেব্রুয়ারি মাসে শুটিং হয়েছিল। কিন্তু পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের বেশ কিছু দিন আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল দিলজিতের ছবির শুটিং। সেই সময় সব ঠিক ছিল। তারপর পরিস্থিতি বদলে যায়। ছবি তৈরিতে প্রযোজকের অনেক টাকা খরচ হয়েছে। ছবি মুক্তির পর থেকেই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন গায়ক-অভিনেতা। ভারতে নিষিদ্ধ হয় তাঁর ছবি। ট্রেলারটিও জিও-ব্লক করেছে। ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ দিলজিৎ ও তাঁর প্রকল্পগুলির উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ভারতীয়দের ভাবাবেগে তিনি আঘাত করেছেন বলেই অভিযোগ ওঠে। এবার মালয়েশিয়ায় কনসার্টে গিয়ে মুখ খুললেন দিলজিৎ। তিনি বলেন, হামলার পর তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। পাঞ্জাবি আর শিখ সম্প্রদায় কখনও দেশের বিরুদ্ধে যেতে পারে না।” “আমার দেওয়ার মতো অনেক উত্তর আছে। কিন্তু আমি চুপ করে রয়েছি।”আমি শিখেছি, যে যা কিছু বলুক না কেন, সেই বিষ ভেতরে নিতে নেই। তাই কিছু বলিনি।”

জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, “এটা আমার দেশের জাতীয় পতাকা। যা আমি সবসময় সম্মান করি।” একইসঙ্গে সাম্প্রতিককালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া ক্রিকেট ম্যাচ ঘিরে কটাক্ষের ভঙ্গিমায় দিলজিৎ বলেন, “এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ খেলা যেতে পারে, কিন্তু একটা ছবি মুক্তি পেতে পারে না। অথচ আমার ছবির শুটিং শেষ হয়েছিল পহেলগাঁও হামলার অনেক আগেই। আর ক্রিকেট ম্যাচগুলি খেলা হচ্ছে বর্তমানে।”

ছবি মুক্তির আগে দেশে যেভাবে এই ছবিকে ঘিরে বিতর্ক ও জল্পনা দানা বাঁধে তাতে বারবার সাফাই দিয়েছিলেন দিলজিৎ। আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই ছবি মুক্তি না পেলে ঠিক কতটা আর্থিক ক্ষতি হতে পারে সেই নিয়েও। কিন্তু কোনও কিছুতেই লাভ হয়নি। দেশের স্পর্শকাতর সময়ে শত্রুপক্ষের সঙ্গে কোনওরকম আপসেই রাজি নন দেশের মানুষ। বিনোদন দুনিয়া থেকে শুরু করে দেশের সব ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের অংশগ্রহণ খুব স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিতে নারাজ দেশবাসী। তাই তার হাত থেকে ছাড় পায়নি এই ছবিও। ভারত ও পাকিস্তান সম্প্রতি এশিয়া কাপের জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর ক্রিকেট পিচে মুখোমুখি হয়েছিল। ভারত ম্যাচটি জিতলেও, মাঠে পাকিস্তানের কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে হাত মেলাননি ভারতীয় ক্রিকেটাররা। কোনও বাক্য বিনিময়ও করতে দেখা যায়নি তাঁদের।