রিয়া দাস, সাংবাদিক : তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। আর ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নারী সুরক্ষা ও মহিলাদের স্বাধীনতা নিয়ে একের পর এক বড় পদক্ষেপের বার্তা দিতে শুরু করেছে নতুন সরকার। নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলার মেয়েদের আর ভয় বা বাধার মধ্যে বাঁচতে হবে না। তাঁরা যখন খুশি বাইরে বেরোবেন, নিজের পছন্দমতো পোশাক পরবেন। নিজের ইচ্ছে মতো জীবন কাটাবেন। কেউ ঠিক করে দেবে না একজন মহিলা কখন বাড়ির বাইরে বেরোবেন বা কী খাবেন, কী পরবেন।

মহিলাদের নিয়ে এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করে রাজনৈতিক মহল। কারণ আরজি করকাণ্ডের পর দুর্গাপুর বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে গণধর্ষণের সময় মেয়েদের রাত ৮টার পর বাইরে না বেরোনোর মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল অপরাধ দমনের বদলে মেয়েদের চলাফেরার উপরেই যেন দায় চাপানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বদলের বাংলায় খুলেছে আরজি করকাণ্ডের ফাইল। আরজি করে তরুণী চিকিৎকের ধর্ষণ ও খুনের তদন্ত কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড হলেন রাজ্যের তিন আইপিএস অফিসার। বিভিন্ন পদে কর্মরত তিন আইপিএস অফিসার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ও অভিষেক গুপ্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। আপাতত তাঁদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সেই আবহেই বিজেপি সরকারের তরফে এখন তুলে ধরা হচ্ছে স্বাধীনতার নিশ্বাসের কথা। অগ্নিমিত্রা পাল আশ্বস্ত করেছেন যে, আমরা বলবো না রাত ৮টার পর মহিলারা বেরিয়েছে কেন। মন খুলে খোলা আকাশের নীচে বিজেপি সরকারের আমলে নিঃশ্বাস নিন। এটা স্বাধীনতার নিঃশ্বাস।
অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, খুব দ্রুত পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে ১৮১ মহিলা হেল্পলাইন নম্বর। এই নম্বরে ফোন করলেই জিও ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে জানা যাবে সমস্যায় পড়া মহিলা কোথায় রয়েছেন। তারপর তাঁর কাছাকাছি থানার মহিলা হেল্প ডেস্কে সরাসরি খবর পৌঁছে যাবে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংকল্পপত্র অনুযায়ী প্রতিটি থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক তৈরির পরিকল্পনাও সামনে এনেছে নতুন সরকার।
অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, শুধু কাগজে-কলমে নয় বাস্তব ক্ষেত্রেও মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তবে রাজনৈতিক বিতর্কও থামেনি। তৃণমূলের তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, বিজেপি শাসিত বহু রাজ্যেই মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। উত্তরপ্রদেশ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে উদাহরণ তুলে ধরে বিজেপিকে আক্রমণও করা হয়েছে। অনেক ঘটনায় বিচার না মেলার অভিযোগও উঠেছে। সেই কারণেই বাংলার মানুষ এখন দেখছেন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে বাস্তবে কতটা বদল আনতে পারে। তবে নতুন সরকারের বক্তব্য, তারা রাজনীতির বাইরে গিরে বাংলার মেয়েদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে চায়। ভয় নয় স্বাধীনতা এই বার্তাকেই সামনে রাখতে চাইছে তারা। তাই ১৮১ হেল্পলাইন থেকে শুরু করে মহিলা হেল্প ডেস্ক। সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হচ্ছে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।