ডিজিটাল ডেস্ক : আগামী ১১ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে নীতি আয়োগের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। আর সেই বৈঠক ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে জল্পনা। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ফলে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের নতুন সমীকরণ কী বার্তা দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

সোমবার নীতি আয়োগের একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেন শুভেন্দু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রীরাও। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। তার পরেই স্পষ্ট হয়, ১১ জুনের মূল বৈঠকে দিল্লিতে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূল আমলে নীতি আয়োগের বৈঠককে ঘিরে একাধিক বার বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অভিযোগ করেছিলেন, বৈঠকে তাঁকে ঠিকমতো বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। একবার তো মাইক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে মাঝপথেই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। পরে নীতি আয়োগের কয়েকটি বৈঠক বয়কটও করে তৃণমূল সরকার।
বিশেষ করে ২০২৫ সালের বৈঠকে মমতার অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে দেশের অধিকাংশ মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি না-থাকা নিয়ে বিজেপি সরব হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, উন্নয়ন ও আর্থিক পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজ্যের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।
এ বার অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন। বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পরে কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নীতি আয়োগের বৈঠকে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর প্রসঙ্গও উঠে আসতে পারে।
এ বার আরও একটি কারণে বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী (Ashok Lahiri)। বাংলার রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত অশোক ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে বালুরঘাট থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে তাঁকে আর প্রার্থী না করায় নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র তাঁকে নীতি আয়োগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়।
ফলে এক মঞ্চে নরেন্দ্র মোদী, শুভেন্দু অধিকারী এবং অশোক লাহিড়ীর উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা। সেই জায়গায় ১১ জুনের নীতি আয়োগ বৈঠক কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের বড় পরীক্ষাও হয়ে উঠতে পারে।