New Delhi, May 07 (ANI): Prime Minister Narendra Modi chairs a Union cabinet meeting, in New Delhi on Wednesday. (ANI Photo)
তৃতীয় মোদী সরকারের দু’বছর পূর্তির সঙ্গে সঙ্গেই দিল্লির রাজনৈতিক অন্দরে জোরালো হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে জল্পনা। বিজেপির অতীতের রীতি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রায় দু’বছর পর নরেন্দ্র মোদী সাধারণত মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনেন। সেই সঙ্গে নতুন বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনের দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও গড়ে ওঠেনি তাঁর পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক টিম। ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ও বিজেপির সংগঠন— দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

বিজেপি সূত্রের দাবি, এ বার মন্ত্রিসভা এবং সংগঠনের রদবদল হবে পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কয়েক জন সদস্যকে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আবার সংগঠন কিংবা দলীয় সাংসদদের মধ্য থেকেও নতুন কয়েকটি মুখ মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন। পাশাপাশি কিছু প্রবীণ বা কম সক্রিয় মন্ত্রীকে অব্যাহতি দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, অন্তত সাত থেকে আট জন নতুন সাংসদ এ বার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন।
তবে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার রদবদলের থেকেও বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে আর একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে। একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, কেন্দ্রে আবার উপপ্রধানমন্ত্রী পদ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা চলছে। যদিও উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ সংবিধান স্বীকৃত নয়, অতীতে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা বা জোটসঙ্গীদের গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পদ ব্যবহার হয়েছে।
স্বাধীনতার পর দেশে মোট সাত জন উপপ্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শেষ ছিলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী। অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকারের আমলে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সেই সময়ে সরকার ও দলের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবেই তাঁকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, তার পর মনমোহন সিংয়ের দশ বছরের শাসন এবং নরেন্দ্র মোদীর টানা বারো বছরের প্রধানমন্ত্রীত্বে দেশে আর কোনও উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগ হয়নি।
বর্তমানে সম্ভাব্য উপপ্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে দুটি নাম সবচেয়ে বেশি ঘোরাফেরা করছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা। প্রথম নাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় তাঁর গুরুত্ব প্রশ্নাতীত। অন্যদিকে, বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নামও উঠে আসছে। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ। জেডিইউ-র একাংশ প্রকাশ্যেই দাবি তুলেছে, নীতীশকে উপপ্রধানমন্ত্রী করা হোক। যদিও বিজেপি বা কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত সত্যিই উপপ্রধানমন্ত্রী পদ ফিরবে কি না, কিংবা ফিরলেও সেই দায়িত্ব কার কাঁধে যাবে— তা নিয়ে আপাতত জল্পনাই রাজনৈতিক মহলের প্রধান আলোচ্য বিষয়।