পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজপথে এখন প্রতিবাদের ঝড়। বিদ্যুৎ বিল ও আটার দাম কমানোর দাবিতে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ জনতা। নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা ও লাঠিচার্জ উপেক্ষা করেই দফায় দফায় বিক্ষোভ ও ধর্মঘট পালিত হচ্ছে, যা পাকিস্তান প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের সাহায্য চাই- পাক অধিকৃত কাশ্মীরে দাঁড়িয়ে এমনটাই বলতে শোনা গেল সেখানকার জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র নেতা সর্দার আমন খানকে।
অধিকৃত কাশ্মীরে ফের পাকিস্তানি সেনার নৃশংসতা। ৬০০-র বেশি মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতারের পর রবিবার বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল সেনার বিরুদ্ধে। এই হামলায় একজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আহত হয়েছেন বহু মানুষ, এমনটাই জানিয়েছে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের পিওকে ইউনিট।
সূত্রে খবর, অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের মৌলিক অধিকার ও আটক কর্মীদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন তারা। যেখানে উপস্থিত ছিলেন শয়ে শয়ে মানুষ। মহিলা-শিশুরাও ছিল এই বিক্ষোভে। তাঁদের অভিযোগ, মীরপুর জেলায় এই বিক্ষোভ চলাকালীন পাক পুলিশ ও রেঞ্জার্সরা বল প্রয়োগ করে বিক্ষোভকারীদের হঠানোর চেষ্টা করে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে পাক সেনা। এদিকে এই হামলা এমন সময়ে ঘটল যখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি -র আন্দোলন ব্যাপক আকার নিয়েছে। শুধু তাই নয়, স্বাধীন কাশ্মীরের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারের মানুষ।
এই পরিস্থিতির মাঝেই জেএএসি-র শীর্ষ নেতা সর্দার আমন খানের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। তিনি বলেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রতিবাদীদের দমন করতে রেশন, প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করেছে ইসলামাবাদ। নয়াদিল্লিকে সাহায্য পাঠানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবার ভারতে প্রবেশের পথ খুলে দেওয়ার কথাও বলেন। তাঁর দাবি, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বাসিন্দারা চাইলে যাতে ভারতে প্রবেশ করতে পারেন, তার ব্যবস্থা থাকা উচিত।
তিনি বলেন, আমি মেন্ধার, পুঞ্চ, রাজৌরি ওবং ডোডার জনগণের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। আমাদের এখানে রেশন ও ওষুধের সংকট চরম আকার নিয়েছে। আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন। দয়া করে আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসুন। কাশ্মীর ও অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্যকার সীমান্ত চিরতরে মুছে ফেলার আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন আমরা এক হয়ে যাই। পাকিস্তানের শাসক আমাদের দুর্বল ভাবলে ভুল করবে। ওরা যদি মনে করে আমরা এখানে আটকে পড়েছি তবে এটা ওদের ভুল ধারনা। এরপরই হাজার হাজার জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, তাহলে আমরা কি এবার নিয়ন্ত্রণরেখার দিকে এগোব? পালটা উত্তেজিত জনতা স্লোগান দেয়, হ্যাঁ। ওই জেএএসি নেতা বলেন, যদি আমাদের রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে গুলি চালানো হয়, তবে আমাদের সামনে অন্য পথও খোলা রয়েছে। তার পরিণতি যা হবে তার জন্য ভবিষ্যতে পাকিস্তানকে অনুশোচনা করতে হবে।
এদিকে ব্রিটেনে বসবাসকারী হাজার হাজার কাশ্মীরি পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিশাল মিছিল করেন। লন্ডন কাশ্মীর মিলিয়ন মার্চ নামে পদযাত্রায় হাজার হাজার মানুষ পার্লামেন্ট স্কোয়ার থেকে পাকিস্তান হাই কমিশন পর্যন্ত মিছিলে অংশ নেন। মিছিলে বিক্ষোভকারীরা অধিকৃত কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দেন এবং যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি প্রধান শওকত নওয়াজ মীর ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হন।
জুন থেকেই উত্তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর। সম্প্রতি ইদগাহ মাঠে জনগণ সমবেত হয়ে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ নয়। তাঁরা স্বাধীনতা চাই বলেও সোচ্চার হন। স্থানীয়দের বড় অংশের অভিযোগ, সেখানকার প্রশাসন ঠুঁটো। তাদের হাতে কোনও ক্ষমতা নেই। সবটাই চালায় ইসলামাবাদ। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষদের বঞ্চিত করে তারা। গত ৫ জুন জেএএসি-কে নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান সরকার। জঙ্গি সংগঠনের তকমা দেয়। তাতে বিক্ষোভ আরও মাথাচাড়া দেয়। স্থানীয়দের বড় অংশের দাবি, পাকিস্তানের সরকার মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির মাধ্যমে সেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়। স্থানীয় দলগুলিকে নির্মূল করতে চায়। এ বার সেই জেএএসি নেতা সরাসরি ভারতের সাহায্য চাইলেন।