ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, আবার যুদ্ধ শুরু হলেও ইরানের নীতিতে কোনও পরিবর্তন হবে না। তাঁর মতে, ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হলে তা হবে অযৌক্তিক। ইরানের সংবাদ সংস্থা ISNA-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই মন্তব্য করেছেন।ISNA জানিয়েছে, ‘শহিদ সৈয়দ কামাল খারাজি ডকুমেন্টেশন সেন্টার ও মিউজিয়াম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরাঘচি এই কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে বিদেশনীতি নিয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সৈয়দ কামাল খারাজির ভূমিকা নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভা এবং ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের বিশেষ গ্রন্থাগারেরও উদ্বোধন করা হয়।আরাঘচি বলেন, “এখন আবার যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু আমি এখন থেকেই যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছি। যুদ্ধ হোক বা না হোক, আমাদের নীতি একই থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “যদি কারও মধ্যে যুক্তিবোধ থাকে, তাহলে তারা আর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর চেষ্টা করবে না।”

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি আর আগের মতো থাকবে না আরাঘচি আরও বলেছেন, ৪০ দিনের যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আর আগের মতো থাকবে না। তাঁর দাবি, এই যুদ্ধের ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।তিনি বলেন, “৪০ দিনের যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালির যে পরিস্থিতি ছিল, এখন আর তা থাকবে না।” তিনি আরও বলেন, “বুদ্ধিমানের কাজ হবে আর ইরানে হামলা চালানোর চেষ্টা না করা।”আরাঘচির কথায়, “এই অঞ্চলে এখন এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। অতীতে যা ছিল, ভবিষ্যতে আর সবকিছু তেমন থাকবে না।”
এই সংঘাতকে আঞ্চলিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে উল্লেখ করে ইরানের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “রমজান যুদ্ধ এই অঞ্চলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এর ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমস্ত কাঠামো ওলটপালট হয়ে গিয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হলে সব রণাঙ্গনেই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।” ৮০টিরও বেশি মার্কিন বিমান ধ্বংসের দাবি ইরানেরআরাঘচি দাবি করেছেন, এই সংঘর্ষে ইরানের সেনাবাহিনী ৮০টিরও বেশি মার্কিন বিমান ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। তাঁর দাবি, এর মধ্যে প্রায় সব বিমানই মাটিতে থাকা অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।তিনি বলেন, “এই যুদ্ধে আমরা ৮০টিরও বেশি মার্কিন বিমান ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছি। এর মধ্যে প্রায় সবগুলিই মাটিতে থাকা অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয়েছে।”তিনি আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রায় সব সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ওই ঘাঁটিগুলিতে থাকা শত শত ভবনও ধ্বংস হয়েছে বলে তিনি জানান।
ISNA-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাঘচি বলেন, “এই অঞ্চলে আমেরিকার প্রায় সব সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং ওই ঘাঁটিগুলির শত শত ভবনও ধ্বংস হয়েছে।”তবে মার্কিন বিমান ও সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের এই দাবিগুলি আরাঘচির বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।ইরানে হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন না ট্রাম্পএদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (স্থানীয় সময়) বলেছেন, খুব শিগগিরই ইরানের উপর হামলা চালানো হতে পারে।শনিবার ফ্লোরিডায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “আপনারা কি সত্যিই মনে করেন, আমি আপনাদের সেটা বলে দেব? হয়তো কালই হামলা হতে পারে। আবার এমনও হতে পারে যে আমরা একটি বড়, সুন্দর চুক্তিতে পৌঁছে যাব। ওরা চুক্তি করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হল, ওরা কি সেই চুক্তি মেনে চলবে?”পশ্চিম এশিয়ায় তাঁর প্রশাসনের পরিকল্পনার পক্ষেও সওয়াল করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি সেখানে মোতায়েন মার্কিন সেনা ও সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করেন।ট্রাম্প বলেন, “আমরা অসাধারণ কাজ করেছি। আমাদের নৌবাহিনী ও সামরিক বাহিনী অসাধারণ কাজ করেছে। তারা ইরানের প্রতিটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। ২৫৯টি জাহাজ সমুদ্রের তলায় চলে গিয়েছে। এখন তাদের কাছে শুধু রেকর্ড পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি রয়েছে।”
হরমুজ প্রণালি খোলার প্রস্তাব দেওয়ার খবর অস্বীকার ইরানেরএদিকে, ইরান নতুন করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের কাছে কোনও প্রস্তাব দেয়নি বলে দাবি করেছে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম। এই সংবাদ সংস্থাটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সঙ্গে যুক্ত।প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার যে প্রস্তাব ইরান আমেরিকাকে দিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, তেহরান তা অস্বীকার করেছে।প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাসনিমকে সূত্রগুলি জানিয়েছে, সৌদি আরবের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই খবর “মিথ্যা এবং সম্পূর্ণ মনগড়া”।এর আগে সৌদি আরবের একটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তানের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনের কাছে ইরান একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সেই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আমেরিকা যদি ইরানের