মাম্পি রায়, সাংবাদিক : আম আদমি পার্টির ভাঙন ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। রাজ্যসভার একাধিক সাংসদের বিজেপিতে যোগদানের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন পঞ্জাবের মন্ত্রীরা। শনিবার কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন পঞ্জাবের মন্ত্রী বলবীর সিং এবং হারপাল সিং চিমা।

বলবীর সিংয়ের অভিযোগ, দলত্যাগী নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সুরে সুর মিলিয়ে চলছিলেন। বিশেষ করে রাঘব চাড্ডা-কে নিশানা করে তিনি বলেন, “ও অনেক দিন ধরেই বিজেপিকে অনুসরণ করছিল, আপকে নয়।” তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্ত ও অভিযানের প্রেক্ষিতে এই দলবদল কোনও বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। যদিও এই পরিস্থিতিতেও পঞ্জাব সরকার এবং আপের কাজকর্মে কোনও প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।
এখানেই থেমে থাকেননি বলবীর। তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যদি নৈতিকতা থাকে, তবে রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তবেই বিজেপিতে যোগ দেওয়া উচিত ছিল।” দলত্যাগীদের উদ্দেশে তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।
অন্যদিকে, হারপাল সিং চিমা সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে সংবিধান ও গণতন্ত্র ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপি দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে।” পাশাপাশি তিনি জানান, আপ এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং সংবিধান রক্ষার লড়াইয়ে পিছপা হবে না।
দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে চিমা বলেন, “এই সিদ্ধান্তে লক্ষ লক্ষ পঞ্জাববাসীর আবেগে আঘাত লেগেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, পঞ্জাবের মানুষ বিজেপিকে ক্ষমা করবে না এবং ভবিষ্যতে এর রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে।
এদিকে, বিজেপির তরফে অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে। বিজেপি নেতা আরপি সিং বলেন, আপের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ জমে ছিল। তাঁর দাবি, এই দলত্যাগ কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়। তিনি উদাহরণ হিসেবে যোগেন্দ্র যাদব, শাজিয়া ইলমি, প্রশান্ত ভূষণ এবং কুমার বিশ্বাস-এর মতো প্রাক্তন নেতাদের নাম উল্লেখ করেন, যাঁরা অতীতে দল ছেড়েছেন।
উল্লেখ্য, রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক ও অশোক মিত্তল-সহ একাধিক রাজ্যসভার সাংসদ সম্প্রতি আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এমনকি রাজ্যসভার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন নিয়ে এই ভাঙন কার্যত বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই দলবদলকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরেই তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই সংঘাত যে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট।