মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা : নিম্নচাপের লাগাতার বৃষ্টিতে মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন মৃতার ছেলে ও পূত্রবধূ। গতকাল রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার কুণ্ড পুষ্করিণী গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে মৃতার নাম বেলি রুইদাস। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের কুণ্ড পুষ্করিণী গ্রামের ৭৬ বছর বয়সের বাসিন্দা বেলি রুইদাস ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে একচিলতে মাটির বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। ছেলে রাজ্যের বাংলার বাড়ি প্রকল্পে পাকা বাড়ি তৈরীর জন্য সরকারি ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ পান। কিন্তু সামান্য ওই টাকায় বাড়ির কাজ থমকে যায় মাঝপথেই। অগত্যা এই বর্ষাতেও পরিবারটির দিন কাটছিল নিজেদের একচিলতে মাটির বাড়িতে। গতকাল রাতে আচমকাই মাটির বাড়ির একটি দেওয়াল ধসতে শুরু করে। বুঝতে পেরে ছেলে ও পুত্রবধূ তাড়াহুড়ো করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। বের করে আনা হয় বাড়ির ভেতর থাকা বেশ কয়েকটি গরুকেও। কিন্তু বেলি রুইদাস ও একটি গরুকে বাড়ির বাইরে বের করে আনার আগেই কাঁচা বাড়ির দেওয়াল ধসে পড়ে। মাটির দেওয়ালের ভেঙে পড়া অংশের নিচে চাপা পড়ে যান বেলি রুইদাস। পরে স্থানীয়রা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এরপরই পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের দাবি বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বরাদ্দ বেশি থাকলে বৃদ্ধার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটতো না।