ভারত ও আসিয়ান দেশগুলির মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সহযোগিতা আরও মজবুত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) তরফে জানানো হয়েছে, ‘আসিয়ান-ভারত সামুদ্রিক সহযোগিতা বর্ষ’ উপলক্ষে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে সামুদ্রিক পরিস্থিতির উপর নজরদারি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সোশ্যাল মিডিয়া X-এ জানিয়েছেন, গত ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ইন্ডিয়ান ওশান রিজিয়নের ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টারে (IFC-IOR) এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।
IFC-IOR-এর তরফে জানানো হয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা কেন্দ্রটির কাজকর্ম সরাসরি দেখার সুযোগ পান। কীভাবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান করা হয় এবং সমুদ্রে কোনও বিপদ বা দুর্ঘটনা ঘটলে কীভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে বিষয়েও তাঁদের জানানো হয়। বৈঠকে সমুদ্রপথে নতুন করে তৈরি হওয়া নিরাপত্তার সমস্যা, আঞ্চলিক পরিস্থিতির উপর নজরদারি এবং ভারত ও আসিয়ান দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলি গুরুত্ব পায়। সমুদ্রে নিরাপত্তা বজায় রাখতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে নিরাপদ, সুরক্ষিত ও স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে ভারত এবং আসিয়ান দেশগুলির মধ্যে স্বার্থের মিল ও যৌথ উদ্যোগের বিষয়টি এই আলোচনায় উঠে আসে। ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এবং ‘মহাসাগর’ (MAHASAGAR) পরিকল্পনার সঙ্গেও এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ‘মহাসাগর’ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিল ভারত। এর পুরো নাম ‘মিউচুয়াল অ্যান্ড হোলিস্টিক অ্যাডভান্সমেন্ট ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্রোথ অ্যাক্রস রিজিয়নস’। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হল বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে নিরাপত্তা ও উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো। পাশাপাশি সমুদ্রসম্পদের সঠিক ব্যবহার, বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার দায়িত্ব যৌথভাবে পালন করার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন সংঘাতের জেরে সমুদ্রে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নাবিকদের সুরক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।
এর আগে গত মাসেও আসিয়ান দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা দিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ফিলিপিন্সে আয়োজিত ১৩তম আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক (ADMM-Plus)-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হল আসিয়ান দেশগুলির কেন্দ্রীয় ভূমিকা।
রাজনাথের আশা, এই বৈঠকের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস আরও বাড়বে। পাশাপাশি, নতুন নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতার পথও আরও প্রশস্ত হবে। নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলতে এই মঞ্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।