শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা : এতদিন সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে ঢোকার খবরই বেশি শোনা যেত। কিন্তু এবার ছবিটা উল্টো। রাজ্যে পালাবদলের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন দৃশ্য। বসিরহাটের স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্টে ভিড় জমিয়েছেন বহু বাংলাদেশি নাগরিক। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার একাই অপেক্ষা করছেন দেশে ফেরার জন্য।

এক সময়ে শুনশান থাকত হাকিমপুর চেকপোস্ট। তবে গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে অনেকাংশে। গত চারদিন বাংলাদেশিদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। রাজ্যে পালাবদল ঘটতেই বদলে গেল বাংলাদেশ সীমান্তের ছবিটা। বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে হাকিমপুর চেকপোস্ট । রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দালালচক্রের মাধ্যমে এদেশে প্রবেশ করেছিলেন এদের সিৎহভাগই। কেউ পরিচারিকার কাজ করতেন, কেউ শ্রমিক হিসেবে কাজ পেয়েছিলেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন অবৈধভাবে বসবাসও করছিলেন। অভিযোগ, সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধাও তাঁরা পেয়েছেন। যদিও এই দাবির সরকারি কোনও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া অবস্থানের পর সীমান্ত এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেক বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরতে চাইছেন।

বাংলাদেশিরা দেশে ফেরার অপেক্ষায়। শুক্রবার পর্যন্ত আড়াইশো জন অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিকে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হলেও ১০০ জনকে উপযুক্ত নথিপত্র যাচাই করে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিয়েছে বিএসএফ । দেশে ফেরার অপেক্ষায় ওপার বাংলার শিশু, মহিলা, পুরুষরা।
যে যার দেশে থাকবে তাঁদের নাগরিক। কড়া হুঁশিয়ারি রাজ্য সরকারের। থানা থেকে বারবার বলতে আসছে, বাংলাদেশে চলে যাওয়ার জন্য। তাই চলে যাচ্ছি, বলে জানান এক মহিলা।
পেটের দায়ে বাংলাদেশ ছেড়ে এ দেশে এসেছিলাম। কাজ করছিলাম। কিন্তু সরকার যদি ভাবে তাঁদের দেশে আমাদেরকে রাখবে না। তাহলে তো কিছু করার নেই, তাহলে তো চলে যেতেই হবে। তাই চলে যাচ্ছি বলে জানান অপর এক অনুপ্রবেশকারী।
সীমান্ত এলাকায় এখন এক অন্য ছবি। হোল্ডিং সেন্টারে দিন কাটছে বহু বাংলাদেশি নাগরিকের। কেউ পরিবার নিয়ে ফিরছেন, কেউ আবার দীর্ঘদিনের পরিচিত কর্মস্থল ও বসবাসের জায়গা ছেড়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ। অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট সকলের মুখেই। নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ হলেই ধাপে ধাপে তাদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, বৈধ নথি ছাড়া কোনও বিদেশি নাগরিককে এ দেশে থাকতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের অনেকেই বলছেন, জীবিকার তাগিদেই তাঁরা এ দেশে এসেছিলেন। তবে কড়া নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতার জেরে এখন সীমান্ত পেরিয়ে নিজ দেশে ফেরাই তাঁদের একমাত্র পথ। ফলে হাকিমপুর চেকপোস্টকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি, যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে সীমান্তজুড়ে। অন্যদিকে বাংলা হচ্ছে অনুপ্রবেশ মুক্ত। কোনও বাইরের দেশের মানুষ নয়। নিজের দেশের মানুষই কাজ পাবে তাঁদের মাটিতে।