শ্রেয়সী বল, সাংবাদিক : রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ টি আসনের মধ্যে ২০৭ আসন নিজেদের ঝুলিতে ভরে বাংলার মসনদে বসেছে বিজেপি। গোটা দেশে ক্রমশই বিস্তার ঘটাচ্ছে গেরুয়া শিবির। বহুবার বাংলা দখলের চেষ্টা করলেও খালি হাতে ভিরতে হয়েচে পদ্ম দলকে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দাঁত চেপে লড়াই করতে দেখা গেছে বিজেপিকে। লড়াইয়ের ফলও পেয়েছে তারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মত দুঁদে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমস্ত রণকৌশল ব্যর্থ করতে সক্ষম হয়েছে। আজ আপনাদের সামনে গোটা দেশে গেরুয়া শিবিরের বিস্তার ও আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে বেশকিছু তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করব।

২৮টি রাজ্য এবং ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিয়ে গঠিত আমাদের ভারত।২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে -জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে বিভক্ত করার পর, রাজ্যের সংখ্যা ২৯ থেকে কমে ২৮-এ দাঁড়িয়েছে। এবার আসা যাক রাজ্যের ২৮টি রাজ্যের কথায়।এখন আপনাদের জানাব কোন রাজ্যগুলি বিজিপি শাসিত আর কোন রাজ্যগুলি বিজেপি শাসিত নয়। যে রাজ্যগুলিতে বিজেপি ক্ষমতায় নেই সেগুলি হল-
হিমাচল প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক, কেরালা, মিজোরাম, পাঞ্জাব,তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা
দেশের নটি রাজ্যের মসনদে এখনও বসতে পারেনি বিজেপি। বাকি ১৯টি রাজ্য গেরুয়া রঙে আবৃত। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি হল
অরুণাচল প্রদেশ , অসম , ছত্তিশগড় ,গোয়া , গুজরাত , হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ,মণিপুর ,ওড়িশা, রাজস্থান , সিকিম , ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ ,উত্তরাখণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ
যে সমস্ত রাজ্যে জোট সরকার হিসেবে শাসনভার নিয়েছে বিজেপি সেগুলি হল
মহারাষ্ট্র, মেঘালয় ,নাগাল্যান্ড, বিহার
আমাদের অনেকের কাছেই এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ধারনাটা একটু কম।একটু বুঝিয়ে বলি।কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হলো ছোট আয়তন, ভৌগোলিক অবস্থান, নিরাপত্তা বা ঐতিহাসিক কারণে, যে অঞ্চলগুলো স্বতন্ত্র রাজ্য হিসেবে চলার উপযুক্ত নয়, সেগুলোকে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য সরাসরি কেন্দ্রের অধীনে রাখা হয় । এই অঞ্চলগুলি সরাসরি দেশের কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা শাসিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এককথায় রাষ্ট্রপতি দ্বারা নিযুক্ত প্রশাসক বা লেফটেন্যান্ট গভর্নরের মাধ্যমে কেন্দ্র এখানে শাসনকার্য চালায় ।৮ টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলর মধ্যে বিজেপি সরাসরি বা জোটের মাধ্যমে দিল্লি এবং পুদুচেরিতে সক্রিয়ভাবে শাসনক্ষমতায় রয়েছে। দেশের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি হল-
দিল্লি, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, চণ্ডীগড়,দাদরা ও নগর হাভেলি দমন ও দিউ, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, লক্ষদ্বীপ, পুদুচেরি
এবার আসা যাক সামনের বছর কোন কোন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের সম্ভাবনা।উত্তরপ্রদেশ – সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন, যেখানে ৪০৩টি আসনের জন্য ভোট হওয়ার কথা।উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকার, যাকে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হিসেবেও উল্লেখ করা হয়, রাজ্যের শাসনভার পরিচালনা করছে। গুজরাট বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে ২০২৭ সালের শেষে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।উত্তরাখণ্ড -এখানেও বিজেপি সরকার ২০২৭ সালে নতুন নির্বাচনের সম্মুখীন হবে।মণিপুর রাজ্যেও ২০২৭ সালে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এখানেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। এবার আসার যাক গোয়ার কথায়।গোয়া বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা ৪০, যার মধ্যে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে।২০২৭ সালের নির্বাচনের তালিকায় রয়েছে গোয়া।হিমাচল প্রদেশে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এই সরকার গঠিত হয়।২০২৭ সালের শেষের দিকে এখানেও বিধানসভা নির্বাচনের সম্ভাবনা। সামনের বছর পঞ্জাবেও বিধানসভা নির্বাচনের সম্ভাবনা। বর্তমানে এখানেআম আদমি পার্টি র সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক ফলাফলের মাধ্যমে বিজেপি সেখানে ১৫ বছরের পুরনো শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে । ভারতের উত্তর থেকে সুদূর দক্ষিণ, পশ্চিম উপকূল থেকে উত্তর-পূর্ব পর্যন্ত বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাব ও footprint ব্যপক বিস্তৃত। ২০১৪ সাল থেকে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি ভারতে রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।বিজেপির এই ধারাবাহিক বিজয় ও আধিপত্য দেশটির নির্বাচনী রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তন করছে ।এককথায় ভারতীয় জনতা পার্টি ও তার নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে ক্রমশই তাদের আধিপত্য সুসংহত করছে।বিজেপি সরাসরি এবং জোট সহযোগীদের নিয়ে দেশের অর্ধেকের বেশি অংশ, অর্থাৎ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে ২১টিতে ক্ষমতায় রয়েছে। আগামী বছর ৭ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে একইরকম ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবি কি গেরুয়া শিবির?