জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিকঃ খেলার থেকেও এখন বেশি চর্চা হচ্ছে ক্রিকেট খেলার আশপাশের জিনিস নিয়ে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে। পরপর দুটো ম্যাচে ভারতের কাছে হেরেও পাক প্লেয়ারদের অসভ্যতা কমেনি। সাহিবজাদা থেকে হ্যারিস রউফ প্রত্যেকের অসভ্যতা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে । ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর। মাঝে ব্যবধান মাত্র এক সপ্তাহ। আর এই এক সপ্তাহের ব্যবধানে এশিয়া কাপে ঘটে গিয়েছে বিস্তর কিছু। বলা যেতে পারে খেলার মাঠে ভারত-পাক সংঘাত।

বিতর্ক কি নিয়ে। ভারত-পাক ম্যাচ চলাকালীন ফিল্ডিং-এর সময় রউফকে বাউন্ডারির ধারে দাঁড়িয়ে ভারতীয় ফ্যানেদের দিকে ‘৬-০’ দেখাতে দেখা যায়। সেই ভিডিও ও ছবি ইতিমধ্য়ে ভাইরাল। আর যা নিয়ে দুই দেশের ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় সমর্থকদের দাবি, হাতের ইশারায় ভারতের যুদ্ধবিমান রাফাল ধ্বংসের দাবি করেছেন রউফ। ভারতীয় দর্শকদের দিকে আঙুল তুলে ‘৬-০’ ইশারা করেছিলেন তিনি। বিমান ধ্বংস হওয়ারও ইঙ্গিত করেছিলেন হাত দিয়ে। ভারত-পাকিস্তানের সীমান্ত উত্তেজনা ও অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তান নাকি ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপতিত করেছিল। এক বার নয়, ম্যাচ চলাকালীন দু’বার এই ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। তবে শুধুমাত্র রউফ নয়। পাক ব্যাটার সাহিবজাদা ফারহানও হাফ-সেঞ্চুরির পর ব্যাট দিয়ে বন্দুক তাক করার মতো ভঙ্গি করে নাটকীয়তা আরও বাড়িয়ে দেন।

রবিবার এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে হ্যারিস রউফকে পাল্টা জবাব দিতেই দেখা গেল অর্শদীপ সিংকে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হারিস রউফের অঙ্গভঙ্গির জবাবেই অর্শদীপ একইভাবে হাতের ইশারা করেন। যদিও তা নিয়ে বিতর্কও হয়েছে।
কিন্তু রউফ হঠাৎ এমন অঙ্গভঙ্গি করতে গেলেন কেন… একটি ভিডিও দেখা যাচ্ছে, ম্যাচ চলাকালীন ভারতীয় দর্শকরা বাউন্ডারির ধারে ফিল্ডিং করা রউফকে লক্ষ্য করে বারবার কোহলি-কোহলি বলে চিৎকার করছিলেন। কিন্তু দর্শকদের এমন চিৎকারের কারণ কি। ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মেলবোর্নে রউফের দু’বলে বিরাট কোহলি দুটি ছক্কা মেরেছিলেন। সেই ইনিংসকেই আজও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেরা মুহূর্তগুলির একটি বলে মনে করেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। প্রথমে চাপে পড়েও চুপ ছিলেন রউফ। কারণ প্রথমে কান চেপে ধরা ভঙ্গিতে স্লোগানকে পাত্তা না দেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। পরে হঠাৎ উসকানিমূলক ভঙ্গিতে যুদ্ধবিমান চালানোর অঙ্গভঙ্গি করেন। এর আগে অনুশীলনে তিনি হঠাৎই চিৎকার করে বলেন ‘৬-০’।
পাকিস্তানি শিবিরের একাংশের দাবি, ওটা ছিল নিছক খেলোয়াড়দের নিজেদের ফুটবল ম্যাচের উল্লেখ। যদিও ভারতীয় সমর্থকদের একাংশ অবশ্য এটিকে অপারেশন সিঁদুরের সঙ্গে যুক্ত করছেন। পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু। প্রতিশোধ নিতে সামরিক অভিযান ভারতের। পাকিস্তান দাবি করেছিল, তারা নাকি ছ’টি ভারতীয় যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করেছে। পাক ক্রিকেটারের সেই ছবি নিজের ইনস্টা স্টোরিতে দেন তাঁর রউফের স্ত্রী মুজনা মাসুদ মালিক। সেখানে তিনি লেখেন, ম্যাচ হেরেছি কিন্তু যুদ্ধ জিতেছি। অর্থাৎ মুজনা বোঝাতে চেয়েছেন, পহেলগাঁও হামলা ও তার পর অপারেশন সিঁদুর-এর সময় দু’দেশের মধ্যে যে সংঘাত হয়েছিল তাতে জিতেছে পাকিস্তান। এর ফলে বিতর্ক আরও বেড়েছ।
এই ঘটনার প্রতিবাদে পাক পেসারকে বয়কটের দাবিও উঠেছে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে। ভারতীয় সমর্থকদের বক্তব্য, সূর্যকুমার যাদব পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার নিন্দা করেছেন। নিজের দেশের সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু পাকিস্তানকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করেননি। রউফ সেখানে ভারতকে নিয়ে মশকরা করার চেষ্টা করেছেন। সেই কারণে রউফের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার অনুরোধ করেছেন তাঁরা।

রবিবার এশিয়া কাপের সুপার ফোরের মহারণে ভারতীয় ২ ওপেনার শুভমন গিল ও অভিষেক শর্মাকে উসকাতে চেয়েছিলেন পাক পেসাররা। এবার পাক ক্রিকেট দলকে সতর্ক করলেন প্রাক্তন পেসার ইরফান পাঠান। প্রাক্তন ভারতীয় অলরাউন্ডার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্লেয়াররা সুপার ফোরের ম্যাচে ভারতের অভিষেক ও শুভমনকে বিব্রত করেছিল বারবার। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে এসে অভিষেক শর্মা নিজেও সে কথা জানিয়েছিল যে ব্যক্তিগত আক্রমণও বারবার করছিল পাক ক্রিকেটাররা। যা একেবারেই উচিত নয়। আমরা ভারতীয়রা শান্তিপ্রিয়। আমরা ক্রিকেট খেলতে এসেছি। ক্রিকেটটাই খেলতে চাই। কিন্তু এটাকে দুর্বলতা ভাবলে কিন্তু ভুল হবে। আমরা ব্যাট হাতেও এমনকী ব্যাট ছাড়াও প্রত্যেক মন্তব্যের জবাব দেব সঠিকভাবেই। এখানেই শেষ নয়, হারিস রউফ ও সাহিবজাদা ফারহানকে নিশানা করে ইরফান বলেন, যদি তুমি আমাদের সঙ্গে ঝামেলা করো, আমরা তোমাকে ছেড়ে দেব না। এটাই আমাদের নিয়ম।