চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে ৮৭ রানে জয় পেল নিউজিল্যান্ড। শুক্রবার অকল্যান্ডে এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জয়ের নায়ক গ্লেন ফিলিপস ও জ্যাকব ডাফি। ফিলিপস দুরন্ত শতরান করেন। অন্যদিকে, ডাফি নেন ৪টি উইকেট। চলতি পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এটাই নিউজিল্যান্ডের প্রথম জয়। তবে সিরিজে এখনও ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ভারত। একটি ম্যাচ বাকি রয়েছে।

প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে গ্লেন ফিলিপস ১০৭ এবং মাইকেল ব্রেসওয়েল ৬৫ রান করেন। ৪৯ বলে ১০৭ রান করেন ফিলিপস। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ১০টি ছক্কা। অন্যদিকে, মাত্র ২৫ বলে ৬৫ রান করেন ব্রেসওয়েল। তিনি ৪টি চার ও ৬টি ছক্কা মারেন। ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে এটাই নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান।
২৬০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। প্রথম বলেই চার মারেন সঞ্জু স্যামসন। কিন্তু এরপর জ্যাকব ডাফির বলে আউট হন সঞ্জু (৪) ও ঈশান কিষান (০)। মাত্র ৪ রানে ২ উইকেট হারায় ভারত। এরপর শ্রেয়স আইয়ার ও অভিষেক শর্মা রান বাড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ২৭ রান করে আউট হন অভিষেক। ২২ রান করে ফিরে যান অধিনায়ক শ্রেয়সও। ফলে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ৬১ রানে ৪ উইকেট হারায় ভারত।
এরপর নীতীশ কুমার রেড্ডি কয়েকটি ছক্কা মেরে রান বাড়ান। কিন্তু ২১ রান করে স্যান্টনারের বলে আউট হন তিনি। একই ওভারে অক্ষর প্যাটেলকেও ৭ রানে আউট করেন স্যান্টনার। এই ম্যাচে ১৫০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক উইকেটের মালিক হন তিনি। এরপর নামান ধীর কিছুটা লড়াই করেন। ১৩ বলে ২৮ রান করেন তিনি। কিন্তু ডাফির বলে আউট হন নামান। পরের বলেই আউট হন অর্শদীপ সিং। ফলে ১২১ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত।
এরপর তিলক বর্মা ও প্রিন্স যাদব খেলা চালিয়ে যান। কিন্তু তাঁদের পক্ষে ম্যাচ জেতা সম্ভব হয়নি। ৩৫ রান করে আউট হন তিলক। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান করে ভারত। প্রিন্স যাদব ১৮ এবং ময়ঙ্ক যাদব ৩ রানে অপরাজিত থাকেন। নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেন জ্যাকব ডাফি। ২৩ রান দিয়ে ৪টি উইকেট পান তিনি। এছাড়া স্যান্টনার ও ম্যাথিউ ফিশার ২টি করে উইকেট নেন।
প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং
টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই টিম সেইফার্টকে হারায় নিউজিল্যান্ড। মাত্র ৩ রান করে ময়ঙ্ক যাদবের বলে আউট হন তিনি। এরপর ২৪ রান করে আউট হন ড্যারিল মিচেল। ফলে ৩৪ রানে ২ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। এরপর ফিন অ্যালেন ও গ্লেন ফিলিপস দলের রান বাড়াতে শুরু করেন। তাঁদের ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ৬৭ রান তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।
১৭ বলে ৩১ রান করে অক্ষর প্যাটেলের বলে আউট হন অ্যালেন। এরপর বেভন জ্যাকবসকে নিয়ে খেলতে থাকেন ফিলিপস। ৭ রান করে ময়ঙ্ক যাদবের বলে আউট হন জ্যাকবস। এরপর ব্যাট করতে নামেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। ফিলিপস ও ব্রেসওয়েল মিলে ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে বড় বড় শট মারতে থাকেন। মাত্র ৪০ বলে ১১৫ রান যোগ করেন তাঁরা। তাঁদের এই জুটি ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত প্রিন্স যাদবের বলে ৬৫ রান করে আউট হন ব্রেসওয়েল।
তবে ফিলিপস নিজের ব্যাটিং চালিয়ে যান। অর্শদীপ সিংকে ছক্কা মেরে শতরান পূর্ণ করেন তিনি। শেষ ওভারে নীতীশ কুমার রেড্ডির বলে আউট হওয়ার আগে ১০৭ রান করেন ফিলিপস। মাত্র ৪৯ বলে এই রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ১০টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রান করে নিউজিল্যান্ড। ভারতের হয়ে ময়ঙ্ক যাদব ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া অর্শদীপ সিং, প্রিন্স যাদব, নীতীশ কুমার রেড্ডি ও অক্ষর প্যাটেল একটি করে উইকেট পান।
ম্যাচের ফলাফল: নিউজিল্যান্ড: ২৫৯/৭ (২০ ওভার) ভারত: ১৭২/৯ (২০ ওভার)। গ্লেন ফিলিপস ১০৭ রান, মাইকেল ব্রেসওয়েল ৬৫ রান এবং জ্যাকব ডাফি ৪ উইকেট নেন। ৮৭ রানে ম্যাচ জেতে নিউজিল্যান্ড। সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত।