অঙ্কিতা পাল, সাংবাদিকঃ জুবিন গর্গের স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে রাখতে এবার এক অভিনব উদ্য়োগ অসম সরকারের। ভক্তদের কাছে গায়কের শেষ স্মৃতিটুকু পৌঁছে দেওয়া হবে বিশেষ অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে। তিন বছর বয়স থেকেই সঙ্গীতের প্রশিক্ষণ শুরু করেন জুবিন। মায়ের কাছেই তাঁর প্রথম গান শেখা। পরে ১৯৯২ সালে পেশাগতভাবে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। অসমিয়া সিনেমার পাশাপাশি বাংলা সিনেমাতেও প্রচুর গান গেয়েছেন। সঙ্গীত পরিচালক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘মন মানে না’, ‘পিয়া রে’ তাঁর জনপ্রিয় গান। বলিউডে প্রীতমের হাত ধরে ‘গ্যাংস্টার’ ছবির ‘ইয়া আলি’ গান হইচই ফেলে দিয়েছিল গোটা দেশে। বহুবার নানা কারণে বিতর্কেও জড়িয়েছেন জুবিন। নেশাগ্রস্ত হয়ে মঞ্চে গান গাওয়ার কারণে বহুবার বিপাকেও পড়েছিলেন। দারুণ শিল্পী হয়েও অনেকেই মনে করতেন জুবিনের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন তাঁকে ঠেলে দিচ্ছিল অন্ধকারে। তবে জুবিনের আকস্মিক মৃত্যু অসমের পাশাপাশি সারা ভারতে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল।

তাই তো সিঙ্গাপুর থেকে তাঁর মরদেহ আসার পর নতুন করে ময়নাতদন্ত হয়েছিল। শিল্পীর ম্যানেজার এবং আয়োজকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছিল অসম সরকার। তবে তাঁর স্ত্রী আপ্তসহায়ককে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। যাতে তার শেষকৃত্যে তিনি থাকেন। থরে থরে চন্দনকাঠে সাজানো অন্তিম শয্যায়, নিথর হয়ে শুয়ে জুবিন গর্গ।

সুরের জগৎ হারিয়েছে তার এক প্রিয় সন্তানকে। এই ক্ষতি মেনে নিতে না পেরে গোটা অসমের মানুষ কেঁদেছি্ল। চোখের জল মুছতে মুছতে ভক্তরা শেষ যাত্রাতেও গেয়েছিলেন তাঁর গান ‘মায়াবিনী’— সেই গান, যা তিনি নিজেই একদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলে গিয়েছিলেন। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের মতোই শেষ সময়েও পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী গরিমা। যেহেতু সন্তানহীন ছিলেন জুবিন, তাই মুখাগ্নি করেছেন ছোট বোন পামী বড়ঠাকুর। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহযোগী অরুণ ও কবি-গীতিকার রাহুল। অসম সরকারও ভক্তদের হৃদয়ে চিরজীবী করে রাখতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। অনলাইনে মিলবে জুবিন গর্গের চিতাভস্ম।ভক্তদের আবেগের কথা মাথায় রেখে অসম সরকার অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অসম সরকারের এই অনলাইন পোর্টালে নাম, ঠিকানা লিখে আবেদন করলেই, মিলবে জুবিনের চিতাভস্ম। এই দায়িত্বভার নিয়েছে অসম সরকারের শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রক। ডেডিকেটেড অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

সরকার একইসঙ্গে জুবিন গর্গের স্মৃতিকে অমর রাখতে দুটি স্থানে স্মৃতিসৌধ গড়ে তুলেছে। প্রথমটি গুয়াহাটির কামারকুচিতে। যেখানে শিল্পীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল। জায়গাটির নিরাপত্তার জন্য করা হয়েছে অস্থায়ী ব্যারিকেড। স্থায়ী সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় স্মৃতিসৌধ তৈরি হবে জোরহাটে। যেখানে গায়কের শৈশব কেটেছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, পরিবার ও স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া গর্গের অনুরোধে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভক্তদের জন্য স্থায়ী স্মরণীয় স্থান তৈরির জন্য জোরহাটে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কাজ দ্রুত করা হবে। সময় এগোবে, প্রজন্ম বদলাবে, কিন্তু মায়াবিনীর মতোই ভেসে থাকবে তাঁর গান— আর ভক্তদের হৃদয়ে তিনি থেকে যাবেন চিরকাল।